শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
ফিচার

ঘুরে আসতে পারেন বিক্রমপুর জাদুঘর

MA ১৬ মার্চ ২০২৫ ১২:৪৫ এ.এম

newssign24.com বিক্রমপুর জাদুঘর: ছবি সংগৃহীত

এনএস ডেস্ক
ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ের কাছেই ছনবাড়ি (শ্রীনগর পয়েন্ট) থেকে পশ্চিম দিকে ভাগ্যকূলের কাছে এক পাশে বয়ে গেছে প্রমত্তা পদ্মা, আর অন্য প্রান্তে নয়নাভিরাম আড়িয়াল বিল। আর এ বিলের ধারেই ভাগ্যকূলের সাবেক জমিদার যদুনাথ রায় গড়ে তুলেছিলেন জমিদার বাড়ি। মনোমুগ্ধকর পুরনো এ বাড়িটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে একই রকম দেখতে কারুকাজ সজ্জিত মুখোমুখি দু’টি জরাজীর্ণ প্রাসাদ। কাচারী ঘর, দূর্গা মন্দির, লক্ষীমন্দির। বিভিন্ন প্রজাতির দূর্লভ সব ফুল ও ফলজ গাছ-গাছালি।

বিক্রমপুরের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। প্রাচীন পূর্ববঙ্গ বা সমতটের রাজধানী হিসেবে বিক্রমপুরের খ্যাতি কমপক্ষে ১২০০ থেকে ১৫০০ বছরের। বিক্রমপুরের মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে হাজার বছর আগের নৌকা, কাঠের ভাস্কর্য, পাথরের ভাস্কর্য, টেরাকোটাসহ অসংখ্য অমূল্য প্রত্নবস্তু। এখানকার মাটিতে জন্মেছেন অনেক মণীষী। 

বিক্রমপুরের এইসব অতীত ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকজীবন, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও প্রত্ন নিদর্শনাদি সংরক্ষণ করা সর্বোপরি প্রদর্শনের জন্য সামাজিক সংগঠন #৩৯;অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন্#৩৯; ব্যাপক কাজ করছে। সংগঠনটি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল ইউনিয়নের উত্তর বালাসুর গ্রামে থাকা জমিদার যদুনাথ রায়ের পরিত্যক্ত বাড়িতে
‘বিক্রমপুর জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করেছে। বাড়িটি ১৯৬৫ সাল থেকে পরিত্যক্ত। সরকারকে বছরে ২ লাখ টাকা লিজের অর্থ পরিশোধ এবং কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বেতন বিদ্যুৎ বিল ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ; সবমিলে ৩ লাখ টাকার উপরে পরিশোধ করে জাদুঘরটি ১১ বছর যাবত পরিচালিত হচ্ছে।

প্রায় সাড়ে ১৩ একর জায়গার ওপর ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিক্রমপুর জাদুঘরে রয়েছে গেস্ট হাউস বা পানশালা। থাইল্যান্ডের মতো নৌ জাদুঘর বা বোট মিউজিয়াম এবং শহীদ মুনীর-আজাদ স্মৃতি পাঠাগার। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে সপ্তাহের বাকি ৬ দিন জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত থাকে। ৭টি গ্যালারিতে গুরুত্বপূর্ণ সব নির্দশন
এই জাদুঘরের নিচতলার বাম পাশের গ্যালারি যদুনাথ রায়ের নামে। এ গ্যালারিতে বিক্রমপুরের প্রাচীন মানচিত্র, বিক্রমপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া মাটির পাত্র, পোড়া মাটির খেলনাসহ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে। নিচতলার ডান পাশের গ্যালারিটি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর নামে। এ গ্যালারিতে আছে ব্যাসাল্ট পাথরের বাটি, গামলা, পাথরের থালা, পোড়া মাটির ইট, টালি ইত্যাদি। এছাড়া বিক্রমপুরের নানা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার ছবিসহ বিভিন্ন নিদর্শন
দেখা যাবে এখানে।

দ্বিতীয় তলার বাম পাশের মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারিতে রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ছবি, ইতিহাস, দলিল, বই ও বিভিন্ন নমুনা। আর ডান পাশের গ্যালারিতে বিক্রমপুরে জন্ম নেয়া মনীষীদের জীবন ও কর্মের বৃত্তান্ত খুঁজে পাবেন। কাগজ আবিষ্কারের আগে প্রাচীন আমলে যে ভূর্জ গাছের বাকলে লেখা হতো সেই বাকল দেখতে পাবেন এখানে। তৃতীয় তলায় তালপাতায় লেখা পুঁথি, পুরাতন খাট-পালং, চেয়ার, টেবিল, আলমারী, কাঠের সিন্দুক, আদি আমলের মূদ্রা, তাঁতের চরকা, পোড়া মাটির মূর্তি, সিরামিকের থালাসহ প্রাচীন আমলে স্থানীয় মানুষদের ব্যবহার্য বিভিন্ন নিদর্শন।

মাটি খুঁড়ে পাওয়া হাজার বছর আগের ইতিহাস বিক্রমপুরের হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতা মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল এতদিন। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাটি খুঁড়ে প্রায় দেড় হাজার বছর আগের বৌদ্ধনগরীসহ বেশ কিছু
প্রত্ননিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। মাটির নিচে আবিস্কার হয় দেড় হাজার বছর আগের এক নগর সভ্যতা। ২০১২ সালে রামপালের রঘুরামপুরে বৌদ্ধবিহার, টঙ্গিবাড়ীর নাটেশ্বরে এক থেকে দেড় হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধনগরী আবিষ্কার করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রায় ৩ মিটার গভীর পর্যন্ত মানব বসতির চিহ্ন পাওয়া যায়। মাটি খুঁড়ে পাওয়া বিক্রমপুরের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস-ঐতিহ্যের নিদর্শন একটি গ্যালারিতে ঠাঁই পেয়েছে। রঘুরামপুর ও নাটেশ্বর থেকে প্রাপ্ত কিছু মহামূল্যবান নির্দশন এই গ্যালারিতে রয়েছে।

জাদুঘর প্রাঙ্গণে যা রয়েছে:
এই জাদুঘর প্রাঙ্গণে রয়েছে তিন তলা বিশিষ্ট এসি গেষ্ট হাউস। যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বেডরুম ও আধুনিক সুযো-সুবিধা সংবলিত ওয়াশ রুম পাবেন। এছাড়া কার পার্কিং সুবিধা, অডিটোরিয়াম/কনফারেন্স রুম, খেলার মাঠ, ওপেন স্টেজ, বিশাল দীঘি, শান বাঁধানো পুকুর ঘাট, জমিদারীর কাচারি ঘর, ইউরোপিয়ানদের জন্য গেস্ট হাউস, ভাগ্যকূলের জমিদার যদুনাথ রায়ের মুখোমুখি ২টি ভবন, নৌ জাদুঘর, উন্মুক্ত জাদুঘর, নানা প্রজাতির দূর্লভ ফুলের বাগান, ফলজ
গাছ-গাছালি।

আশেপাশের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান:
বিক্রমপুর জাদুঘরের আশেপাশেও আপনি অনেক দর্শনীয় স্থানের দেখা মিলবে। যেমন- স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়ি, অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের বাড়ি, আড়িয়াল বিল ইত্যাদি।

যেভাবে যাবেন: 
রাজধানীর খুব কাছেই বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেস ওয়েতে (ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে) উঠে বালাসুর চৌরাস্তা থেকে ডানে ঢুকলেই পাবেন
বিলের ধারে প্যারিস শহর, যেখানে জমিদার যদুনাথ রায়ের পরিত্যক্ত বাড়ি। এ বাড়িটিতেই গড়ে উঠেছে বিক্রমপুর জাদুঘর। একই প্রাঙ্গণে রয়েছে তিন তলার একটি গেস্ট হাউস। তিনতলা ভবনের এ জাদুঘরে প্রবেশ করতেই দু’পাশে দু’টি বড় মাটির পাতিল বা মটকা দেখতে পাবেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

ঢাকা থেকে বিলুপ্ত প্রায় কিছু আদি পেশা

news image

ঘুরে আসতে পারেন বিক্রমপুর জাদুঘর

news image

ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে একটি দর্শণীয় স্থান ফেনী 

news image

ভুটানের সেরা খাবার

news image

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গাইবান্ধা

news image

বসন্ত বাতাসে আজ শুধু ভালোবাসার বর্ণচ্ছটা...

news image

পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে রংপুরে

news image

স্বপ্নপুরীর দেশে একদিন

news image

যা কিছু আছে দেখার আছে ব্রহ্মপুত্র ঘেরা কুড়িগ্রামে

news image

বারুণী স্নান উৎসব দেখতে যেতে পারেন নীলফামারীর নীলসাগরে

news image

প্রাচীন ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জনপদ ঠাকুরগাঁও ভ্রমণ

news image

শেষ সীমান্তের সৌন্দর্য দেখতে লালমনিরহাট ভ্রমণ

news image

ঘুরে আসতে পারেন প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন ‘হিমালয়কন্যা’ পঞ্চগড়

news image

প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল শাপলা

news image

পর্তুগালে স্থায়ী ভাবে থাকার সুবিধা বন্ধ

news image

বঙ্গোপসাগরের যে দ্বীপে মানুষ গেলে আর জীবিত ফিরতে পারে না

news image

২ মিনিটে হাঙরকে একাই গিলে ফেললো তিমি

news image

যে ৬টি কাজ করে আপনি নিজের জীবন নিজেই নষ্ট করছেন

news image

‘মৃত্যুর’ নাম্বার পড়েছে লক্ষ্মীপুরের ১৫ হাজার গাছে!

news image

‘নারীর বিনা বেতনে করা কাজের স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি স্মার্ট হবে না’ 

news image

মাটি খুঁড়তেই বের হলো ২ হাজার বছর আগের শত শত সমাধি

news image

মাছ কী ঘুমায়?

news image

হিজাব পরে আলোচনার ঝড় তুললেন যে মডেল

news image

গাছ লাগানোর সঠিক সময় কখন?

news image

৫০ জন কনের যৌতুক ছাড়া বিয়ে

news image

জীবন্ত অবস্থায় কবর দেবার চারদিন পর বৃদ্ধকে জীবিত উদ্ধার

news image

কর্মক্ষেত্রে একাকিত্ব বোধ করেন?

news image

ভালো কাজ করলেই খাবার পাওয়া যায় যেখানে

news image

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ার কারণ ও সমাধান 

news image

বৃষ্টির মতো ছিটকে পড়ছে স্বর্ণ