MA ১৬ মার্চ ২০২৫ ১২:০৪ এ.এম
এনএস ডেস্ক
নগর জীবনে বর্তমানে অতি জনপ্রিয় একটি সবজি ক্যাপসিকাম। এটি লাল, হলুদ, সবুজ, কমলা ও বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। তবে দেশে লাল, হলুদ, সবুজ ক্যাপসিকামই বেশি দেখা যায়। মূলত বেল পেপার বা মিষ্টি মরিচ নামে পরিচিত ক্যাপসিকামের স্বাদ সাধারণত মিষ্টি ও হালকা ঝালযুক্ত হয়। সালাদ, স্যুপ ও চাইনিজ খাবাওে ক্যাপসিকামের বহুবিধ ব্যবহার দেখা যায়। খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের পুষ্টি জোগাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরা ক্যাপসিকাম শরীরের নানা ধরণের উপকার করে। প্রতি ১০০ গ্রাম ক্যাপসিকামে রয়েছে প্রোটিন ১.০ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৬.০ গ্রাম, ফাইবার ২.১ গ্রাম, সুগার ৪.২ গ্রাম, ফ্যাট ০.৩ গ্রাম, ভিটামিন সি ১২৭.৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৩১৩১ আইইউ, ভিটামিন বি৬ ০.২ মিলিগ্রাম, ফোলিক অ্যাসিড বি৯ ১০ মাইক্রোগ্রাম, পটাসিয়াম ২১১ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, ও শক্তি উপাদান ৩১ কিলো ক্যালরি।
পুষ্টিবিদদের মতে, ক্যাপসিকামে ভিটামিন সি’র পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এটি কোলাজেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখায় ত্বক ও হাড়ের ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে। ক্যাপসিকামে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। ক্যাপসিকামে থাকা ক্যাপসিসিন শরীরে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
ক্যাপসিক্যামে থাকা লুটেইন এবং জেক্সানথিন নামক উপাদান চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কম ক্যালরি ও উচ্চ ফাইবার থাকায় ওজন কমাতে সাহায্য করে ক্যাপসিকাম। এর ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে পারে। ফাইবারের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয় এবং কোলন পরিস্কার হয়। বাতজ্বর, আর্থাইটিস ও শরীরের অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগ ঠেকাতে ক্যাপসিকামে থাকা উপাদান ভূমিকা রাখে। ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন বি৬ মস্তিস্কের কার্যকারিতা উন্নত করে। ক্যাপসাইসিন থাকা একটি উপাদান রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা যেমন হাঁপানি এবং সাইনাসের সমস্যা উপশমে ক্যাপসিকাম কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
ক্যাপসিকামে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন কে হাড় মজবুত করে, ফলে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমে। এতে থাকা ভিটামিন বি৬ এবং আয়রন শরীরে শক্তি যোগায়। এটি লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়ায়। ফলে অ্যানিমিয়া রোগ প্রতিরোধের সম্ভাবনা বড়ে। লিভারকে ডিটক্স করতে ক্যাপসিকাম দারুণ ভূমিকা রাখে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে সুরক্ষা দেয়। গর্ভাবস্থায় ক্যাপসিকাম অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা উপাদান ভ্রুণের সঠিক বিকাশে সহায়তা করে।
তবে, এতো গুণের ক্যাপসিকাম কারো কারো জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ক্যাপসিকাম খেলে কারো কারো অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। তাই খাবার পর খেয়াল রাখতে হবে, তেমনটি হচ্ছে কি-না। উপকারের আশায় যারা বেশী পরিমাণে ক্যাপসিকাম খান, তাদের পেটে গ্যাস বা পেট ফাঁপা ভাব অনুভূত হতে পারে। যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তারা অতিরিক্ত ঝালযুক্ত অর্থাৎ লাল ক্যাপসিকাম এড়িয়ে চলুন। যারা রক্ত তরল রাখার ওষুধ খান, তারা ক্যাপসিকাম না খাওয়াই ভালো।
টানা নয়, কেনাকাটা সারুন বুঝে-শুনে
সোনামনিদের নিয়ে ঝক্কিহীন শপিং যেভাবে করবেন
ঈদ শপিংয়ে সতর্ক থাকুন
ইফতারে ঠান্ডা পানি পান ঝুঁকিপূর্ণ
ইফতারে সিদ্ধ ডিমে চাঙ্গা হোন
ইফতারে আনুন ভিন্নতা: ক্রিমি ফ্রুট ফিউশন
ইফতারে হালিম রেখেছেন কি?
ইফতারে খান বেলের শরবত
রোজায় সুস্থ থাকতে দই-চিড়া খান
রোজায় সুস্থ থাকতে মেনে চলবেন যে বিষয়গুলো
গুণের শেষ নেই ক্যাপসিকামে
বিটরুট হলো ‘সুপার ফুড’, তবে...
টমেটো খান, তবে অপরিমিত নয়
প্রতিদিন অন্তত একটি গাজর খান
দারুণ উপকারী দারুচিনি
সুস্থ থাকতে আদা খান
আগাছা হিসেবে জন্মালেও পুষ্টিগুণে ঠাঁসা বথুয়া শাক
মেথি শাকের জাদুকরী প্রভাব
পাট শাকে যেসব উপকার
পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ডাঁটা শাক
রোজায় সুস্থ থাকতে চিয়া সিডের সঠিক ব্যবহার
গুণের অভাব নেই কলমি শাকে
অবহেলা করবেন না নুনে শাক
পুষ্টির খনি লাউ শাক
লাউ যেন এক মহৌষধ!
এই গরমে পাতে রাখুন পটোল
খেতে ভুলবেন না গিমা শাক
কাদা পানিতে জন্মালেও হেলেঞ্চা কিন্তু উপকারী
কচুর ছড়া বা কচুমুখির নানা গুণ
পুষ্টিগুণে ভরপুর কচুর লতি