MA ০৩ মার্চ ২০২৫ ০১:১৩ এ.এম
এনএস ডেস্ক
ডিম্বাকৃতির পাতার নুনিয়া বা নুনে শাক আজকাল অনেকেই চেনেন না। নগরজীবন যত বিস্তৃত হয়েছে, প্রাকৃতিক অনেক কিছু যেন বিস্মৃত হয়েছে। অথচ একমাত্র প্রকৃতিই এখন পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে নিবেদিত রয়েছে সৃষ্টিকর্তার বিধান অনুসারে বা নির্দেশনা অনুযায়ী। প্রকৃতির প্রায় সব উপাদানই মানুষের কল্যাণে সৃষ্টি হয়েছে।
মানুষের জন্য উপকারী উপাদানে ভরা শাক-সবজি এই প্রকৃতিরই অবদান। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো অনেক নুনিয়া বা নুনে শাক। এর আরেকটি জাত হলো নূন খুড়িয়া। এটি দেখতে একই রকম, তবে পাতা একটু ছোট। এই শাককে অনেকে আবার বুল খুড়িয়াও বলে থাকেন। দেখতে ছোট হলেও নুনে শাকের ওষুধি গুণ অপরিসীম।
নুনে শাক আখ ক্ষেত ও মিশ্র ফসলের জমিতে জন্মায়। ফাল্গুন মাস থেকে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত এই শাকের মৌসুম। এই শাক কালো মসৃণ, লাল রঙ বা লালচে সবুজ হয়ে থাকে। এর হলুদ রঙের ফুল ৬ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এটি একটি বর্ষজীবী, রসালো, গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। গাঢ় সবুজ পাতা তেলতেলে এবং রসালো।
নুনে শাকের পাতায় পাতায় রয়েছে কার্বোঅক্সালিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই, থাইয়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যারোটিনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান। এ শাকে যথেষ্ট পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে।
বাংলাদেশের সব জায়গায় এই শাক জন্মালেও অনেকে খান না। এটি খেলে বুঝবেন শরীরে কি প্রভাব পড়ে। শাকটি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জন্মে থাকে। ইউরোপ, মেক্সিকো এবং মধ্যপ্রাচ্যে এই শাকের ব্যাপক কদর রয়েছে। অন্য শাকের সঙ্গে মিশিয়ে ভাজি করে খেতে পারেন নুনে শাক। শুধু ভাজি করে বা রান্না করে খাওয়া যায় এই শাক। স্বাদ একটু নোনতা এবং টক হলেও এর পুষ্টিগুণ আপনাকে অনেক রোগের হাত থেকে রক্ষা করবে।
আয়ুর্বেদ মতে, নুনে শাকের রস হালকা গরম করে খেলে বাচ্চাদের কাশি ভালো হয়ে যায়। যারা দীর্ঘদিন ধরে আমাশয় রোগে ভূগছেন, তারা নুনে শাকের রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সকাল-বিকাল খেলে কিছুদিন পর দেখবেন আমাশয় পালিয়েছে। এই শাক ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, যকৃৎ, পিত্ত, কিডনী, হাঁপানি ও হৃদরোগের অনেক সমস্যাই দূর করতে পারে। ডায়াবেটিস ও অ্যাজমা রোগীদের পথ্য হিসেবে এই শাক ব্যবহার হয় বলে জানা যায়।
নুনে শাকে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। আর উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। নুনে শাকে থাকা ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম আপনার শরীরের হাড়কে মজবুত করতে পারে। এই শাকে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। যাদের চোখ ওঠা রোগের কারণে চোখে ব্যাথা হয়, তারা নুনে শাকের রস চোখে দিলে আরাম পাবেন।
বলা হয়ে থাকে তোতলামী কমিয়ে দিতে পারে নুনে শাকের রস। এই শাকের রস কিছুক্ষণ মুখে রেখে ফেলে দেবেন। এভাবে কিছুদিন করলে তোতলামীর ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটার কথা জানা যায়। বিষাক্ত কোনও কিছু লেগে গা চুলকালে নুনে শাক বেটে এর রস বের করুন। তারপর ওই রস গরম করে প্রলেপ দিন। জ্বলুনি ও চুলকানি বন্ধ হবে।
টানা নয়, কেনাকাটা সারুন বুঝে-শুনে
সোনামনিদের নিয়ে ঝক্কিহীন শপিং যেভাবে করবেন
ঈদ শপিংয়ে সতর্ক থাকুন
ইফতারে ঠান্ডা পানি পান ঝুঁকিপূর্ণ
ইফতারে সিদ্ধ ডিমে চাঙ্গা হোন
ইফতারে আনুন ভিন্নতা: ক্রিমি ফ্রুট ফিউশন
ইফতারে হালিম রেখেছেন কি?
ইফতারে খান বেলের শরবত
রোজায় সুস্থ থাকতে দই-চিড়া খান
রোজায় সুস্থ থাকতে মেনে চলবেন যে বিষয়গুলো
গুণের শেষ নেই ক্যাপসিকামে
বিটরুট হলো ‘সুপার ফুড’, তবে...
টমেটো খান, তবে অপরিমিত নয়
প্রতিদিন অন্তত একটি গাজর খান
দারুণ উপকারী দারুচিনি
সুস্থ থাকতে আদা খান
আগাছা হিসেবে জন্মালেও পুষ্টিগুণে ঠাঁসা বথুয়া শাক
মেথি শাকের জাদুকরী প্রভাব
পাট শাকে যেসব উপকার
পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ডাঁটা শাক
রোজায় সুস্থ থাকতে চিয়া সিডের সঠিক ব্যবহার
গুণের অভাব নেই কলমি শাকে
অবহেলা করবেন না নুনে শাক
পুষ্টির খনি লাউ শাক
লাউ যেন এক মহৌষধ!
এই গরমে পাতে রাখুন পটোল
খেতে ভুলবেন না গিমা শাক
কাদা পানিতে জন্মালেও হেলেঞ্চা কিন্তু উপকারী
কচুর ছড়া বা কচুমুখির নানা গুণ
পুষ্টিগুণে ভরপুর কচুর লতি