শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
ফিচার

পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে রংপুরে

কেবি ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০১:০১ পি.এম

কারমাইকেল কলেজ রংপুর কারমাইকেল কলেজ : ফাইল ছবি

সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ

রংপুরে বাড়ছে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভিড়। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা আসেন। সুপ্রাচীনকাল থেকেই উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জনপদ রংপুরের রয়েছে গৌরবময় ও বৈচিত্র পূর্ণইতিহাস। রংপুরের মধ্যদিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাগট,যমুনা, ধরলা প্রভৃতি নদ-নদী। রংপুর জেলায় ভ্রমণের জন্য উল্লেখযোগ্য স্থান ভিন্নজগৎ, হাতীবান্ধা মাজারশরীফ, তাজহাট জমিদারবাড়ি, কেরামতিয়া মসজিদ ও মাজার, চিকলির বিল, টাউন হল, শ্বাশত বাংলা (মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর), রংপুর চিড়িয়াখানা, মিঠাপুকুর তিন কাতারের মসজিদ, ইটাকুমারী জমিদার বাড়ি, রংপুর কারমাইকেল কলেজ, দেওয়ান বাড়ির জমিদার বাড়ি, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, ঝাড়বিশলা (কবি হায়াত মামুদের সমাধি), আনন্দনগর প্রভৃতি।

হাতীবান্ধা মাজার শরীফ
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন, বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, রিকশা, অটো রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে প্রচুর মানুষ বেড়াতে আসেন। মাজার শরীফটিতে বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যও বিভিন্ন ধরনের মানত করতে সারাদেশ থেকেমানুষ আসে। সবচেয়ে বেশি ভীড় দেখা যায় শুক্রবারে । মাজারে রয়েছে অনেক বড় একটি পুকুর।

তাজহাট জমিদার বাড়ি
তাজহাট জমিদার বাড়িতে রয়েছে বিশাল আকারের চারটি পুকুর। প্রধান প্রাসাদটির ২য় তলায় ওঠা-নামার জন্য গ্যালারির মতো একটি বিরাট সিঁড়ি রয়েছে। জমিদার বাড়ির দ্বিতীয়তলায় উঠানামা করার জন্যে তিনটি অভিগমন পথ রয়েছে । তিনটি অভিগমন পথের মধ্যে মাঝখানটি তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত। অভিগমন পথের ধাপগুলো সাদা ও ছাই রংয়ের পাথর দ্বারা মোড়ানো । ছাদ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে বড় বড় লোহার বীম ও লোহার ফালি। কক্ষের দরজাগুলিও বিশালাকার। জমিদার বাড়ির মধ্যভাগে প্রবেশপথ ও বর্হিগমন পথ রয়েছে। প্রাসাদের দ্বিতীয় তলায় উঠানামার জন্য লৌহনির্মিত নকশা করা কাঠের সিঁড়ি ও রয়েছে, সিঁড়ির রেলিংগুলি ও লোহার নকশা করা– যা দেখতে ফুল গাছের মতো। সিঁড়িটির ভূমি থেকে ভবনের ছাদ পর্যন্ত সাদা-কালো পাথরে মোড়ানো।

কেরামতিয়া মসজিদ ও মাজার
মসজিদটিতে রয়েছে তিনটি গোলাকার সুউচ্চ গম্বুজ । মসজিদটির প্রতিটি কোণে অষ্টভূজাকৃতি স্তম্ভ রয়েছে, যার শীর্ষদেশে শোভা পাচ্ছে কিউপলা। মসজিদের দেয়ালে ও ছাদের কিনারায় মারলন অলংকরণ দেখা যায়।

চিকলীর বিল এবং চিকলী পার্ক
রংপুর শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে চিকলীর বিল। বিভিন্ন রকমের পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে চিকলীর বিল। সেটি ঘেষে গড়ে উঠেছে চিকলী পার্ক, সেখানে রয়েছে সব বয়সের মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা।
 
টাউন হল
রংপুর টাউন হল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র, সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণ কেন্দ্র, বহু সামাজিক, রাজনৈতিক সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাক্ষী। শুধু চিত্ত বিনোদন কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূতিকাগার নয় ; বেদনা ও কষ্টের স্মৃতি ধারণ করে আজও দাঁড়িয়ে আছে রংপুর টাউন হল। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই টাউন হলকে পাকহানাদার বাহিনী `নারী নির্যাতন` কেন্দ্র বানিয়েছিল।

শাশ্বত বাংলা (মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর)
দেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত মূল্যবান নিদর্শন ও স্মারক চিহ্নসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় রংপুরে ও গড়েতোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর `শাশ্বত বাংলা'। জাদুঘরটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র, মানচিত্র, আলোকচিত্র, সেসময় প্রকাশিত বিভিন্ন ধরনের পোস্টার, পত্র-পত্রিকা, পুস্তক ও অন্যান্য দস্তাবেজ রয়েছে।

রংপুর চিড়িয়াখানা
রংপুর চিড়িয়াখানায় রয়েছে বিনোদন উদ্যান, বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু ও পশু পাখি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সিংহ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতাবাঘ, জলহস্তী, ভালুক, বানর, বেবুন, হায়েনা, হরিণ, ময়না, টিয়া, ঈগল, শকুন, সারস, বক, ঘড়িয়াল, অজগর সাপ প্রভৃতি। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন বনজ, ফলজ এবং ঔষুধি গাছ। আরো রয়েছে লেক ও শিশুপার্ক।

মিঠাপুকুর তিন কাতারের মসজিদ
মসজিদটিতে রয়েছে প্রবেশ তোরণ। মসজিদের চারকোণায় রয়েছে চারটি টাওয়ার। এছাড়া মসজিদের উপরে রয়েছে অর্ধগোলাকার তিনটি গম্বুজ। মসজিদে মোট পাঁচটি প্রবেশ পথ রয়েছে। মসজিদের সামনের দেয়ালের শিলালিপি থেকে জানা যায়, জনৈক শেখ মোহাম্মদ সাবেরের পুত্র শেখ মোহাম্মদ আছের কর্তৃক ১২২৬ হিজরীতে (১৮১০খ্রি.) মসজিদটি নির্মাণ হয়েছিল।

ইটাকুমারী জমিদার বাড়ি
অতীত ঐতিহ্য-ইতিহাস সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপদ রংপুর। ইটাকুমারী জমিদার বাড়িটির অধিকাংশ ভবনই আজ ধ্বংস হয়ে গেছে। রয়েছে একটি ইঁদারা ও দুটি ভবন। সাক্ষী হয়ে অবস্থান করছে বিশালাকার পুকুর দুটিও।

রংপুর কারমাইকেল কলেজ
প্রায় ৯শ’ বিঘা জমি জুড়ে অবস্থিত রংপুর কারমাইকেল কলেজটির মূল ভবনটিতে গম্বুজের অনন্য ব্যবহার, বিভিন্ন স্থাপত্যিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্টাবলীর চমৎকার সন্নিবেশ-যা স্বভাবতই সাধারণের মন কেড়ে নেয়।

দেওয়ান বাড়ির জমিদার বাড়ি
দেওয়ান বাড়ির জমিদার বাড়িতে ছোট্ট একটি ভবন রয়েছে। প্রবেশ তোরণটি মোঘল আমলের দুর্গের দুয়ারের মতো। দু'পাশে রয়েছে দ্বার-রক্ষীদের কক্ষ। জমিদার প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর বাড়িটি নিলাম হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে স্কুল ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র
স্মৃতিকেন্দ্রটিতে রয়েছে দশ হাজার গ্রন্থ ধারণ করার মতো গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারে এক সঙ্গে ৫০ জনের পাঠ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আরো রয়েছে শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ ২৫০ আসনের মিলনায়তন। সেমিনার কক্ষে রয়েছে একশ' আসনের ব্যবস্থা। বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি তার নিজ বাড়ির পাশে ৩ দশমিক ১৫ একর ভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে। মূল ভবনটির আয়তন ১ লাখ ৪৭ হাজার ১০ বর্গফুট।

ভিন্নজগৎ
ভিন্নজগতের ভিতরে যেন আরেকটি ভিন্ন জগৎ। এখানে রয়েছে প্লানেটোরিয়াম, রোবট স্ক্রিল জোন, জল তরঙ্গ, সিপ্যারাডাইস, স্পেসজার্নি, আজবগুহা, নৌকাভ্রমণ, শাপলা চত্বর, বীরশ্রেষ্ঠ এবং ভাষা সৈনিকদের ভাস্কর্য,  থ্রিডি-মুভি, ওয়াকওয়ে, ফ্লাই হেলিকপ্টার, মেরিলেক ড্রাইভ, গোরাউন্ড,  সুইমিং পুল স্পিনিং হেড ও মাছ ধরার সুব্যবস্থা। রয়েছে নৌ ভ্রমণের সুবিধা, হাতি,  ঘোড়া, ক্যাঙ্গারুসহ বিভিন্ন ধরনের মূর্তি ও রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছে গাছে বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। থাকতে চাইলে কটেজ রয়েছে ৭টি, আপনি আপনার পছন্দেরটিতে উঠে যেতে পারেন। আরো রয়েছে থ্রিস্টার মডেলের ড্রিম প্যালেস। ভিন্ন জগতের প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা এবং সেখানে যে কোনো রাইড ৫০ টাকার মধ্যেই।

রংপুর যেভাবে যাবেন
সড়ক পথ, রেলপথ এবং আকাশ পথেও যাওয়া যায় রংপুরে। সড়ক পথে যাতায়াতের জন্য ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর এবং মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহনের বাস রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।আর রেলপথে সপ্তাহে ছয়দিন নিদির্ষ্ট সময়ে রংপুর এক্সপ্রেসে যেতে পারেন। আকাশ পথে যেতে হলে বিমান বাংলাদেশ থেকে শুরু করে বেসরকারি বিভিন্ন এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে মাত্র ৪৫ মিনিটে সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে বাসে করে চলে যেতে পারবেন রংপুরে। প্রতিদিন অসংখ্য ফ্লাইট ঢাকা থেকে সৈয়দপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

ঢাকা থেকে বিলুপ্ত প্রায় কিছু আদি পেশা

news image

ঘুরে আসতে পারেন বিক্রমপুর জাদুঘর

news image

ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে একটি দর্শণীয় স্থান ফেনী 

news image

ভুটানের সেরা খাবার

news image

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গাইবান্ধা

news image

বসন্ত বাতাসে আজ শুধু ভালোবাসার বর্ণচ্ছটা...

news image

পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে রংপুরে

news image

স্বপ্নপুরীর দেশে একদিন

news image

যা কিছু আছে দেখার আছে ব্রহ্মপুত্র ঘেরা কুড়িগ্রামে

news image

বারুণী স্নান উৎসব দেখতে যেতে পারেন নীলফামারীর নীলসাগরে

news image

প্রাচীন ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জনপদ ঠাকুরগাঁও ভ্রমণ

news image

শেষ সীমান্তের সৌন্দর্য দেখতে লালমনিরহাট ভ্রমণ

news image

ঘুরে আসতে পারেন প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন ‘হিমালয়কন্যা’ পঞ্চগড়

news image

প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল শাপলা

news image

পর্তুগালে স্থায়ী ভাবে থাকার সুবিধা বন্ধ

news image

বঙ্গোপসাগরের যে দ্বীপে মানুষ গেলে আর জীবিত ফিরতে পারে না

news image

২ মিনিটে হাঙরকে একাই গিলে ফেললো তিমি

news image

যে ৬টি কাজ করে আপনি নিজের জীবন নিজেই নষ্ট করছেন

news image

‘মৃত্যুর’ নাম্বার পড়েছে লক্ষ্মীপুরের ১৫ হাজার গাছে!

news image

‘নারীর বিনা বেতনে করা কাজের স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি স্মার্ট হবে না’ 

news image

মাটি খুঁড়তেই বের হলো ২ হাজার বছর আগের শত শত সমাধি

news image

মাছ কী ঘুমায়?

news image

হিজাব পরে আলোচনার ঝড় তুললেন যে মডেল

news image

গাছ লাগানোর সঠিক সময় কখন?

news image

৫০ জন কনের যৌতুক ছাড়া বিয়ে

news image

জীবন্ত অবস্থায় কবর দেবার চারদিন পর বৃদ্ধকে জীবিত উদ্ধার

news image

কর্মক্ষেত্রে একাকিত্ব বোধ করেন?

news image

ভালো কাজ করলেই খাবার পাওয়া যায় যেখানে

news image

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ার কারণ ও সমাধান 

news image

বৃষ্টির মতো ছিটকে পড়ছে স্বর্ণ