MA ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০১:৪৩ এ.এম
এনএস রিপোর্ট
রূপকথা নয়, বাস্তবে স্বপ্নপুরী ভ্রমণ করতে চাইলে চলে যেতে হবে উত্তরের জেলা দিনাজপুরে। পর্যটনসমৃদ্ধ এ জেলায় গেলে আপনি একসঙ্গে দেখতে পারবেন বহু কিছু। ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দির, স্বপ্নপুরীর মতো নয়াভিরাম বিভিন্ন স্পট, অলৌকিক রামসাগর দীঘি, রাজবাড়ী, রামসাগরসহ আরও কত কী। তাই ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে দিনাজপুর হতে পারে প্রথম পছন্দ।
প্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতির লীলাভূমি দিনাজপুর বহু ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষী বহণ করছে। পর্যটকরা সেখানে গেলে এসব জানতে পারবেন। গাছপালায় ঘেরা দিনাজপুরের সবুজ প্রকৃতি সবাইকে টানে। এ জেলার লিচু ও সুগন্ধী চাল বেশ বিখ্যাত। প্রকৃতির মত এখানকার মানুষগুলোও অতিথি পরায়ন। চলুন জেনে নেয়া যাক এই জেলার দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে-
কান্তজিউ মন্দির:
টেরাকোটার ইটের গাঁথুনিতে তৈরি অসম্ভব সুন্দর একটি মন্দির ‘কান্তজিউ মন্দির’। মন্দিরের প্রতিটি ইটে রয়েছে একটি করে পৌরাণিক ইতিহাস, যা মন্দিরটিকে বাংলাদেশের সর্বোৎকৃষ্ট টেরাকোটা শিল্পের নির্দশন হিসেবে পরিচিত করেছে। কান্তনগর এলাকার এ মন্দিরটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে তৈরি করা হয়। এ মন্দিরের বিশেষত্ব হলো- পৌরাণিক কাহিনীসমূহ পোড়ামাটির অলঙ্করণে এক একটি ইটের মাধমে দেয়ালের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মন্দিরের পাশে থাকা ফলক থেকে জানা যা ১৭২২ সালে দিনাজপুরের মহারাজ প্রাণনাথ এ মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। ১৭৫২ সালে মহারাজের দত্তক ছেলে মহারাজ রামনাথ এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন। মন্দিরের শিখর থেকে আদি ৯টি শিখর ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মহারাজা গিরিজানাথ বাহাদুর ধ্বংস হয়ে যাওয়া ৯টি চূড়া বাদে মন্দিরটির ব্যাপক পুনর্গঠন করেন।
পিরামিড আকৃতির মন্দিরটি তিন ধাপে উপরে উঠে গেছে এবং তিন ধাপের কোণগুলির উপরে মোট ৯টি অলংকৃত শিখর বা রত্ন রয়েছে। যেকোনো দিক থেকেই ভেতরের পবিত্র স্থানে রাখা দেবমূর্তিকে দেখতে মন্দিরের চারদিকে খোলা খিলান পথ রয়েছে। পাথরের ভিত্তির উপর দাঁড়ানো মন্দিরটির উচ্চতা ৫০ ফুটেরও বেশি। নিচতলার প্রার্থনা কক্ষের চারদিকে মন্দিরে মোট চারটি আয়তাকার বারান্দা রয়েছে। নিচতলার চার প্রকোষ্ঠের বাইরে মোট ২১টি খিলান দরজা আছে, আর দ্বিতীয় তলায় এ খিলান দরজার সংখ্যা ২৭টি, তৃতীয় তলার মাত্র তিনটি প্রবেশ দরজা এবং তিনটি জানালা রয়েছে, যা উপরে উঠে গেছে। এঁকেবেঁকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় উঠে গেছে ২‘-৩‘‘ প্রশস্ত সংর্কীণ সিঁড়ি।
দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা থেকে সাত কিলোমিটার দূরে সুন্দরপুর ইউনিয়নে মন্দিরের পাশেই ঢেঁপা নদীর তীরে কান্তজিউ মন্দিরটি অবস্থিত।
স্বপ্নপুরী:
প্রবেশমুখে স্থাপিত প্রস্তর নির্মিত সাদা ডানাবিশিষ্ট দুটি সুবিশাল পরী পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। ভেতরে ঢুকলেই চোখ জুড়াবে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পশু-পাখির ভাষ্কর্য, কৃত্রিম পাহাড়, কৃত্রিম ঝর্ণা এবং ইট-সিমেন্টে নির্মিত বাংলাদেশের এক সুবিশাল মানচিত্র। এটি হচ্ছে জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে অবস্থিত অনিন্দ্য সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপুরী। এ বিনোদন কেন্দ্রে আরও রয়েছে কৃত্রিম ও জীবন্ত পশুপাখীর চিড়িয়াখানা, শিশুদের জন্য পার্ক, দোলনা, বায়োস্কোপ। রয়েছে সারিসারি সবুজ দেবদারু গাছের মনোলোভা সৌন্দর্য আর বিস্তীর্ণ ঝিলের তীরে ফুটন্ত গোলাপ বাগানের মাঝখানে স্থাপিত অপরূপ সুন্দর “নিশিপদ্ম”। আরও রয়েছে বিশাল দীঘিতে স্পিডবোট ও ময়ূরপঙ্খীডানাও। দুই ঘোড়া চালিত টমটম, স্বচ্ছ পানির ফোয়ারার কয়েকটি ফুল বাগান। স্বপ্নপুরী হচ্ছে পরিপূর্ণ একটি বিনোদনকেন্দ্র। একবার স্বপ্নপুরীতে গেলে সত্যিই আপনি স্বপ্নের মাঝে হারিয়ে যাবেন। স্বপ্নপূরীর প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি বিশ টাকা। তবে পার্কিং ফি এর বাইরে।
রাজবাড়ী:
১৬০৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত রাজবাড়ীটি ছিল বৃহৎ দিনাজপুর জেলার ঐশ্বর্য্যের প্রতীক। ধীরে ধীরে রাজবাড়ী গড়ে উঠেছিল তিলোত্তমা হিসেবে। এটি বর্তমানে বিলুপ্ত জমিদারী কীর্তির ধ্বংসাবশেষ মাত্র। রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থাপনাসমূহ হলো-আয়নামহল, রাণী মহল, কুমার মহল, আটচালা ঘর, লক্ষ্মী ঘর, আতুর ঘর, রাণী পুকুর, চাঁপা তলার দিঘী, ঠাকুর বাড়ী, কালীয়া জিউ মন্দির। দিনাজপুর শহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁওগামী মহাসড়কের চিরিরবন্দর সংযোগ সড়কের মোড় থেকে অটোরিকশা যোগে দিনাজপুর রাজবাড়ী যাওয়া যায়।
রামসাগর দীঘি:
কৃষকদের সেচ সুবিধা, প্রজাদের পানির কষ্ট দূরীকরণ এবং দূর্ভিক্ষপীড়িত প্রজাদের কাজের বিনিময়ে খাদ্যের সংস্থান হিসেবেই রাজা রামনাথের আমলে একটি বিশাল দীঘি খনন করা হয়। রাজা রামনাথের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় রামসাগর দীঘি। পাড়ভূমিসহ দীঘির মোট আয়তন ৪,৩৭,৪৯২ বর্গমিটার। জলভাগের দৈর্ঘ্য ১০৩১ মিটার, প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গভীরতা গড়ে প্রায় ৯ মিটার। সর্বোচ্চ পাড়ের উচ্চতা প্রায় ১৩.৫০মিটার। দীঘিটি খনন করতে তৎকালীন প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং ১৫ লাখ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়েছিল। দিনাজপুর শহরের কেন্দ্র থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে আউলিয়াপুর ইউনিয়নে অবস্থিত দিনাজপুরের মহারাজদের অন্যতম কীর্তি রামসাগর দীঘি। দিনাজপুর সদর থেকে অটোরিক্সায় রামসাগর দীঘি যাওয়া যায়।
নয়াবাদ মসজিদ:
মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১.১৫ বিঘা জমির উপর। মসজিদের প্রবেশদ্বারের ওপর ফারসি ভাষায় রচিত লিপি থেকে জানা যায় ১২০০ বাংলা সনে (১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। আয়তাকার মসজিদটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট । তিনটি অর্ধগোলাকৃতির গম্বুজের মধ্যে মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত বড়। গম্বুজদ্বয় বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। মসজিদের চারকোণায় রয়েছে চারটি টাওয়ার। টাওয়ারগুলি অষ্টভুজাকৃতির। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১২.৪৫ মিটার এবং প্রস্থ ৫.৫ মিটার। মসজিদে প্রবেশের জন্য পূর্বদিকে রয়েছে তিনটি খিলান। মাঝের খিলানের উচ্চতা ১.৯৫ মিটার, প্রস্থ ১.১৫ মিটার। মসজিদের ভেতরে পশ্চিম দিকে রয়েছে তিনটি মেহরাব। মাঝখানের মেহরাব দুটি অপেক্ষাকৃত বড়। মসজিদের সমস্ত দেয়াল জুড়ে রয়েছে আয়তাকার বহু পোড়ামাটির ফলক। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক মসজিদটি সংস্কার করে সামনে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেছে। এটি জেলার কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ গ্রামে অবস্থিত।
লিচু:
দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুর লিচুর জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশের সেরা লিচু উৎপন্ন হয় দিনাজপুরে। এ জেলায় মাদ্রাজী, বোম্বাই, বেদানা ও চায়না-৩ ও অরো অনেক জাতের লিচু উৎপন্ন হয়। জেলায় বেশি লিচু উৎপাদন হয় -কসবা, সৈয়দপুর, মাসিমপুর, মাহমুদপুর, নশিপুর, জযদেবপুরে। বিরল এলাকার- মাধববাটি, রসুর শাহ পুর ,রানী পুকুর , মংগলপুর, মাটিআন দীঘি, আজিমপুর, লক্ষীপুর, জগতপুর, রাজুরিয়ায় রয়েছে কয়েকশ’ লিচু বাগান।
লিচুর হাট দেখতে চাইলে যেতে পারেন দিনাজপুর সদরের- কালিতলা ,মাসিমপুর, পুলহাট, বিরলের- মাধববাটি, চিরির বন্দরের- মাদারগঞ্জ হাট এবং বীরগঞ্জের বীরগঞ্জহাট। এসব বাজার থেকেই সারাদেশে লিচু বিপণন হয়ে থাকে।
নদী:
দিনাজপুর গেলে আপনি নৌ ভ্রমণের স্বাদও নিতে পারবেন। দিনাজপুরের করতোয়া, আত্রাই, কাঁকড়া, ঢেপা, পূনর্ভবা, গর্ভেশ্বরী, ছোট যমুনা, ইছামতি, ভূল্লী, পাথরঘাটা ভেলামতিতে রয়েছে নৌ ভ্রমণের ব্যবস্থা। ভ্রমণপিয়াসুরা দিনভর বেড়ানো শেষে বিকালে নৌভ্রমণে গিয়ে ক্লান্তি দূর করে থাকেন।
বিল:
দিনাজপুরে রয়েছে আমইর বিল, চেংগন বিল, বাজনিয়া বিল, ঝেড়ঝেরিয়া বিল, হাস বিল, কাঞ্চন বিল, লাল বিল, পয়সা বিলসহ বেশ কয়েকটি জলাশয়। সেখানে পানকৌরি এসে ভিড় করে। মাছরাঙ্গার মাথা পানিতে চুবিয়ে গোসলের নয়াভিরাম দৃশ্য দেখা যায় এসব বিলে।
ঢাকা থেকে বিলুপ্ত প্রায় কিছু আদি পেশা
ঘুরে আসতে পারেন বিক্রমপুর জাদুঘর
ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে একটি দর্শণীয় স্থান ফেনী
ভুটানের সেরা খাবার
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গাইবান্ধা
বসন্ত বাতাসে আজ শুধু ভালোবাসার বর্ণচ্ছটা...
পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে রংপুরে
স্বপ্নপুরীর দেশে একদিন
যা কিছু আছে দেখার আছে ব্রহ্মপুত্র ঘেরা কুড়িগ্রামে
বারুণী স্নান উৎসব দেখতে যেতে পারেন নীলফামারীর নীলসাগরে
প্রাচীন ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জনপদ ঠাকুরগাঁও ভ্রমণ
শেষ সীমান্তের সৌন্দর্য দেখতে লালমনিরহাট ভ্রমণ
ঘুরে আসতে পারেন প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন ‘হিমালয়কন্যা’ পঞ্চগড়
প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল শাপলা
পর্তুগালে স্থায়ী ভাবে থাকার সুবিধা বন্ধ
বঙ্গোপসাগরের যে দ্বীপে মানুষ গেলে আর জীবিত ফিরতে পারে না
২ মিনিটে হাঙরকে একাই গিলে ফেললো তিমি
যে ৬টি কাজ করে আপনি নিজের জীবন নিজেই নষ্ট করছেন
‘মৃত্যুর’ নাম্বার পড়েছে লক্ষ্মীপুরের ১৫ হাজার গাছে!
‘নারীর বিনা বেতনে করা কাজের স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি স্মার্ট হবে না’
মাটি খুঁড়তেই বের হলো ২ হাজার বছর আগের শত শত সমাধি
মাছ কী ঘুমায়?
হিজাব পরে আলোচনার ঝড় তুললেন যে মডেল
গাছ লাগানোর সঠিক সময় কখন?
৫০ জন কনের যৌতুক ছাড়া বিয়ে
জীবন্ত অবস্থায় কবর দেবার চারদিন পর বৃদ্ধকে জীবিত উদ্ধার
কর্মক্ষেত্রে একাকিত্ব বোধ করেন?
ভালো কাজ করলেই খাবার পাওয়া যায় যেখানে
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ার কারণ ও সমাধান
বৃষ্টির মতো ছিটকে পড়ছে স্বর্ণ