শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
মুক্ত মঞ্চ

পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য, যার রক্তে ছিল প্রতিবাদের আগুন

কেবি ২৮ সেপ্টেম্বার ২০২৪ ০৬:৪১ পি.এম

আমাদের একান্ত আপনজন– ‘পঙ্কজ দা’ পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য

লেখকঃ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

উত্তাল ষাটের দশকে আমার রাজনৈতিক জীবনের এক্কেবারে সূচনাকালে যে কয়েকজন মন জয় করা নেতার সান্বিদ্ধ পেয়েছিলাম তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন শ্রী পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য। না, ভুল হলো! শুধু শ্রী নয়, আমার আমাদের দীর্ঘদিনের বিপ্লবী সহযোদ্ধা- কমরেড পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য। আমাদের একান্ত আপনজন– ‘পঙ্কজ দা’। 

ছাত্র ইউনিয়নের অফিসে আমি প্রথম তার স্বাক্ষাত পেয়েছিলাম। প্রথম স্বাক্ষাতেই অভিভূত হয়েছিলাম, মোহিত হয়েছিলাম। তাঁর অনন্য-সাধারণ দরাজ কন্ঠে উচ্চারিত কথা আমাদের মনযোগকে গভীরভাবে আকর্ষন করেছিল। ভাষার পরিশিলীত অলঙ্করনের সাথে সাথে তাঁর কথার যুক্তিপূর্ণ, তথ্যবহুল, জ্ঞানগর্ভ সারাসার সম্পন্ন প্রতিটি বাক্য সেদিন আমরা  গোগ্রাসে গিলেছিলাম। কথাগুলোর সারমর্ম আত্বস্ত ও আয়ত্ব করতে প্রয়াসী হয়েছিলাম। বঝেছিলাম, একজন আদর্শ ‘নেতা’-ই বটে!  যদিও সেদিনটিই ছিল সেই মানুষটির ছিল পরিচিতির প্রথম দিন, কিন্তু তাঁর কন্ঠের সাথে আরও কয়েক বছর আগেই আমার পরিচয় ঘটেছিল। ঘটনাটির কথা তবে বলি।

সে ছিল ৬২/৬৩ সালের কথা। মনে পরে গেল- এ যে সেই এই একই কন্ঠ! নবাবপুর রোডের উত্তর দিকে ঢোকার মুখেই সেসময় ‘ক্যাপিটাল’ নামে মোগলাই পরোটার জন্য খ্যাত একটি রেস্তোরা ছিল। আমরা ঘনিষ্ট ১/২ জন স্কুলের বন্ধু মোগলাই পরোটা খাওয়ার জন্য মাঝে-মাঝে সেখানে যেতাম। এক দিন বেলা ১১টা/১২টার দিকে আমরা ৩ বন্ধু সেখানে ঢুকে পেছন দিকের একটি টেবিলে বসে মোগলাইয়ের অর্ডার দিয়ে গল্প করছি। আমরা ছাড়া রেস্তোরায় আর কোন কাস্টমার নেই। এমন সময় সাদা ডোলা পায়জামা  ও লম্বা পাঞ্জাবি পড়া একজন যুবক সুইং-ডোর ঠেলে ডুকে আমদের উপস্থিতি না দেখার মতো অগ্রাহ্য করে সামনের দিকের একটি টেবিলে বসে হাক দিয়ে কিছু খাওয়ার অর্ডার দিলেন। সেই গলদ গম্ভির দরাজ কন্ঠ আমাদেরকে ইন্দ্রজালের মতো আবিষ্ট করে ফেলেছিল। আমরা চোখ নামিয়ে নিচু স্বরে গলপ করতে করতে মোগলাই খাওয়া শেষ করে সেই যুবকেরচেহারার দিকে না তাকিয়েই চুপচাপ বেড়িয়ে এসেছিলাম। চেহারার কথা মনে থাকার সুযোগ না থাকলেও সেই কন্ঠ মরমে প্রবেশ করে আমার অগোচরে স্মৃতিতে গাঁথা হয়ে ছিল। তার অনেক পরে, ছাত্র ইউনিয়ন অফিসে বসে পঙ্কজ দা’-র গলদ গম্ভির দরাজ কন্ঠের কথাগুলো শুনতে-শুনতে হঠাৎ মনে হলো- এই কন্ঠ তো আগে কোথায় যেন শুনেছি! কোথায়, কোথায় ---? হ্যা, শুনেছি। এটি তো সেই কন্ঠ যেটি একদিন নবাবপুরের ‘ক্যাপিটাল’ রেস্তোরায় বসে শুনেছিলাম!

পঙ্কজ দা’র সেই কন্ঠের সাথে, এবং তারচেয়ে বড় কথা সেই মানুষটির সাথে আমার, নানান সময়ে নানান ভাবে একসাথে থাকার, একসাথে পথ চলার, একসাথে সংগ্রাম পরিচালনার সুযোগ হয়েছিল। কারাগারে একসাথে না থাকলেও, ’৭১-এ ২৫ মার্চের কালো রাতের বিভিষিকার মাঝে একসাথে থেকেছি, পরে সীমান্ত অতিক্রম করে গেরিলা ক্যাম্প স্থাপনের কাজে যুক্ত থেকেছি, ’৭৫-এর পর একসাথে দেশান্তরে গিয়ে পরবাসে থেকেছি, আন্ডারগ্রাউন্ডে গোপন ডেনে গোপন সভা করেছি- রাত কাটিয়েছি, একটানা দিন-সপ্তাহ-মাস পার করে দূর্গত এলাকায় ত্রান কাজ পরিচালনা করছি, মিছিলে একসাথে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হয়েছি, আন্দোলনের পরিকল্পনা রচনা করেছি – এরকম অনেক কিছু একসাথে করেছি। রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে পঙ্কজ দা’র সাথে আমার সম্পর্ক সূচীত হলেও, রাখী দাশ পুরকায়স্থ-র সাথে তাঁর বিয়ে ও আরও কিছু সূত্রে, সেই ভিত্তিকে অতিক্রম করে সেটিতে কিছুটা পারিবারিক ঘনিষ্টতাও যুক্ত ছিল।পঙ্কজ দা’র সাথে আমার সেসব ব্যাক্তিগত স্মৃতিকথার বিবরণ দীর্ঘ। পঙ্কজ দা’ আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর সম্পর্কে কিছু লিখতে বসে মনে জাগছে সেসব পাহাড়সম স্মৃতিকথা। সব কথা আজকের লেখায় স্থান দেয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে অতৃপ্তি থেকে গেলেও, আজ শুধু একসাথে পথচলার প্রথম দিককার অতি সামান্য কিছু স্মৃতিচারণ এখানে করবো।

ছাত্র ইউনিয়ন করার সূত্রেই পঙ্কজ ভট্টাচার্য্যের সাথে আমার সম্পর্কের সূচনা। ১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়ন ‘মতিয়া গ্রুপ’ ও ‘মেনন গ্রুপ’ – এই দুই অংশে বিভিক্ত হয়ে যায়। দেশে আইউব শাহীর বিরুদ্ধে ও অন্যান্য ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামের কাজে সবাই আমএরা পেরেশান। তার মাঝেই এসে চেপেছিল এর বাইরে আরেকটি কাজ।  ছাত্র ইউনিয়নের দুই গ্রুপের মধ্যে মতবিরোধকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক তখন একটি প্রধান কাজ হয়ে উঠেছিল। আইয়বের বিরুদ্ধে ফাইটের মতো, এটিও ছিল একটি ফাইট। এটিকে আমরা নাম দিয়েছিলাম ‘গ্যাড়া ফাইট’। যুক্তি দিয়ে, তত্ত্ব দিয়ে, কাজ দিয়ে, নিষ্ঠা-একাগ্রতা-দক্ষতা দিয়ে নিজ-নিজ অংশকে ভারি করতে  উভয় পক্ষের নেতারা প্রানপন প্রচেষ্ঠায় গলদঘর্ম থাকতেন। অনেক সময়, কোন একজন কর্মীকে পক্ষে আনার জন্য তার পেছনে ‘আটালো পোকার’ মতো লেগে থাকতে হতো। এরকম অবস্থায় একবার পঙ্কজ’দা কোন এক মফস্বল জেলার কর্মীকে ৩১/১ হোসেনী দালানের ছাত্র ইউনিয়নের অফিসে ডেকে নিয়ে এসে  তাকে ‘মতিয়া গ্রপে’ সামিল করার জন্য তালিম দিতে শুরু করেন। একদিকে প্রশ্ন। অন্যদিকে পঙ্কজ’দা প্রশ্নের জবাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন-ইতিহাস থেকে দৃষ্টান্ত হাজির, বই-পুস্তিকা-পত্রিকা-পেপার কাটিংথেকে পাঠ – করে চলেছেন। বিকেল ৫ থেকে এই বৈঠক ও আলোচনা শুরু হলো। ৬টা বাজে, ৭টা বাজে, ৮টা বাজে তাদের আলোচনা শেষ হচ্ছে না। ৯টা বাজে-বাজে অবস্থা। পঙ্কজ’দা বলেই চলেছেন। শেষ নেই তাঁর কথার। আমরা অফিস ছেরে চলে গিয়েছিলাম। পরের দিন জানেছিলাম যে সেই বৈঠক ৯টা পর শেষ হয়েছিল একটানা চলতে থাকা আলোচনায় ক্লান্ত হয়ে পরা সেই কর্মীর এই উক্তির মধ্য দিয়ে – “ দাদা, হয়েছে – হয়েছে! আর লাগবে না! আমাকে মাফ করে দেন। আমি মতিয়া গ্রুপই করবো।“ জান প্রান দিয়ে লেগে থেকে জনে-জনে যোগাযোগ-সম্পর্ক নিবিড় করার মধ্য দিয়ে কিভাবে ‘মুরগি ধরার’ মতো রিক্রূটমেন্ট করতে হয়, তার প্রত্যক্ষ শিক্ষা এই ঘটনায় আমি পেয়েছিলাম।

একটি কাজ শুরু করলে তা সবরকম প্রতিকূলতার মুখেও সর্বশক্তি দিয়ে কিভাবে শেষ করার চেষ্টা করতে হয় সে শিক্ষা পঙ্কজ ভট্টাচার্য্যের থেকে আমি য়ারেকতি ঘটনার মধ্য দিয়ে পেয়েছিলাম। ১৯৬৬ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ছাত্র ইউনিয়নের ঐতিহাহিক ১০ম সম্মেলনের। তারই একটি ঘটনা। ছাত্র ইউনিয়নের দুই গ্রুপের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেল্ন ছিল সব মহলের জন্য একটি বিশেষ মনযোগ ও আগ্রহের বিষয়। তার ছিল বিশেষ তাৎপর্য্য। সম্মেলনের উদ্ভোবন অনষ্ঠানকে অভিনব রুপ ও আকার দেয়ার জন্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের হলের বাইরে, বড় রাস্তা সংলগ্ন গেইটের পাশের কোনায়,  মুষ্ঠিবদ্ধ হাত উচু করা একজন তরুনের মাটি দিয়ে নির্মিত ১৫/২০ ফুট উচু একটি ভাষ্কর্য স্থাপনের পরকল্পনা করা হয়েছিল। বাঁশ-চাটাই-ছালা ইত্যাদি দিয়ে তার ভেতরের কাঠামো ভালোমতো নির্মানের পর তার উপরে মাটি দিয়ে ভাষ্কর্যের অবয়ব সম্পুর্ণ করার কাজটি ছিল বাকি। সে কাজ শুরু হলো আগের দিন সন্ধার পর। পঙ্কজ দা’র নেতৃত্বে ও পরিচালনায় কয়কজন কর্মী সে কাজ শুরু করলেন। কাজ অনেকদুর আগানোর পর ভোর রাতে এলো ঝড়ো হাওয়া সহ বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ভাষ্কর্যের উপর থেকে মাটি গলে পরতে শুরু করলো। বৃষ্টি এই আসে এই থামে। সকাল-সকাল আমরা স্বেচ্ছাসেবকরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সম্মেলন চত্তরে এসে দেখেলাম সমস্ত জামা-কাপড়-হাত-পা-মুখ কাদায় লেপা পঙ্কজ দা’ বাঁশের মাচার উপর দাঁড়িয়ে ভাষ্কর্যটির মুখমন্ডল মাটি দিয়ে ভড়াট করার চেষ্টা করে চলেছেন। বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া মাটি গলে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার পরেও পঙ্কজ দা’ চেষ্টা করেই যাচ্ছেন! শেষ পর্যন্ত সবটা পরিকল্পনা মতো হয়ে ইয়ঠলো না। পরিকল্পনামতো কাজ সম্পন্ন করার জন্য মাটি কামড়ে এ ধরনের একাগ্রতার শিক্ষা আমি সেদিন পেয়েছিলাম।

আইউবের পতনের পর ১৯৭০ সালের এপ্রিলে এক প্রলয়ঙ্কাকারী টর্নেডোতে ঢাকার দক্ষিন-পুর্ব উপকন্ঠে ব্যাপক ধ্বংশযজ্ঞ ঘটেছিল। বহু মানুষ হতাহত হয়েছিলেন। আমি নিজে ট্ররনেডোর পরদিন ভোরে এক কাপড়ে ছুটে গিয়ে দূর্গত এলাকার ত্রিমোহনী গ্রামে উপস্থিত হয়ে, এবং বিদ্ধস্থ বাড়ি-ঘরের মাঝে একমাত্র আধা-বিদ্ধস্থ মসজিদ ঘরকে কেন্দ্র করে ত্রান কাজ শুরু করেছিলাম। পরিস্থিতির ভয়াবহতার মুখে আমার পক্ষে ত্রান কাজ ফেলে বাড়ি ফিরে আসা সম্ভব ছিল না। আমাকে সেখানেই থেকে যেতে হয়। ত্রানের লুঙ্গি ব্যবহার করে এবং শুধু ত্রান সামগ্রী থেকে চালো-ডাল নিয়ে ও ডিম যোগার করে তা সিদ্ধ করে খাওয়ার ব্যাবস্থা করে সেখানেই টানা ১ মাস গনিত সংস্থার য় মানুষেরত্রান কাজের সমন্বয় করেছিলাম। টর্নেডো-বিদ্ধস্থ সমগ্র এলাকা জুড়ে পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সাইফুদ্দিন মানিক, মোর্শেদ আলী, আব্দুল কাইউম মুকুল, লুৎফর রহমাম প্রমূখের নেতৃত্বে এধরনের ত্রান সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছিল। প্রতিদিনই সকলেরই দিন-রাত পার হয় ক্লান্তিকর পরিশ্রমমে। কে কোথায় ক্যম্প করে আছে তা জানতে পারলেও আমরা পরস্পর মিলিত হওয়ার সুযোগ করতে পারিনি। অবশেষে , একদিন কাজ যখন কিছুটা কমে এসেছিল এবং যেদিনি পুর্নিমা চাঁদ আকাশ আলোকিত করে থাকবে তেমন দিনে আমরা ঠিক করলাম যে’ আমরা সবাই জোৎসনা রাতে কোষা নৌকে ভাসিয়ে এলাকার মাঝামাঝিতে অবস্থিত পঙ্কজ দা’র ক্যাম্পে একত্রিত হবো এবং রাতে সেখানে খেয়ে যাও যার ক্যাম্পে ফিরবো। পঙ্কজ দা’ ছিলেন এর উদ্যোগি ও সবচেয়ে উৎসাহী আয়োজক।  সবাই একত্রত হয়েছিলাম। পঙ্কজ দা’ ভানুসিংয়ের পদাবলী থেকে গান গেয়ে আমাদেরকে অভিভূত করেছিলেন। রথীন চক্রবর্তী রবীন্দ্র সংগীত গেয়েছিলেন। সবাই মিলে কয়েকটি কোরাসও গেয়েছিলাম। পঙ্কজ’দা কোনভাবে কোথাও থেকে মাংস জোগার করে যত্ন করে যা রান্না করে রেখেছিলেন তা আমরা অমৃত সম তৃপ্তির সাথে খেয়ে আবার যারযার কোষা নৌকায় নিজ নিজ ক্যম্পে ফিরেছিলাম। এক অনন্য পরিবেশে সন্ধার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিপ্লবের আদর্শে দীক্ষিত কমরেডদের এই মিলনমেলা আমার কমিউনিস্ট একাগ্রতাকে দৃরতর করেছিল। 

১৯৬৬ সালের দিকে আমি যখন ছাত্র ইউনিয়নের ‘হার্ড কোরের’ একজন একটিভিস্ট হয়ে উঠেছি, ততোদিনে পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য ছাত্র ইউনিয়ন থেকে বিদায় নিয়েছেন। ১৯৬৭ সালের শেষ দিকে তিনি ‘স্বাধীন বাংলা ষরযন্ত্র মামলায়’ কারারুদ্ধ হন এবং ১৯৬৯-এর গন-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তি লাভ করেন। তিনি ছিলেন একজনও সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। আমার মতো ট্রেনিং নেয়া সশস্ত্র যোদ্ধা না হলেও মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন প্রধান নেতা। পার্টির পূর্ব সেক্টরের হেডকোয়ার্টারে এবং এমনকি আমার নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত ‘বাইকোরার’ গেরিলা বেইস ক্যাম্পে তিনি আসলে আমাদের দেখা হতো। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে ‘ঢাকা ঘেরাও’ অভিযান চালানোর জন্য আমারা গেরিলা বাহিনী নিয়ে যখন দেশে প্রবেশ করেছিলাম, আমার যদি ভুল না হয়, তখন পঙ্কজ‘দা- আমাদের সাথে ছিলেন।  

আন্ডারগ্রাউন্ড কমিউনিস্ট পার্টিতে সংগঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে পঙ্কজ ভট্টাচার্য্যের রাজনৈতিক জীবনের সুত্রপাত ঘটেছিলতিনি সেই পার্টিতে সংগঠিত ছিলেন। আমিও তাই ছিলাম। তাই, ছাত্র ইউনিয়ন থেকে বিদায় নেয়ার পরেও তাঁর সাথে আমার রাজনৈতিক সংযোগ আগাগোড়াই অব্যাহত ছিল। স্বাধীনতার পরে কমিউনিস্ট পার্টি প্রকাশ্যে কাজ শুরু করলে পঙ্কজ‘দা ও আমি উভয়ই পার্টির বৃহত্তর ‘ঢাকা জেলা কমিটির’ সদস্য হিসেবে একসাথে কাজ করেছিলাম। পার্টির দ্বীতিয় কংগ্রেসে তিনি ‘পরিচয় গোপন রেখে ‘রহমত’ নাম ধারণ করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিরি সদস্য হিসেবেও দায়ীত্ব পালন করেছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে ন্যাপ-এর কাজের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। সেখানে তাঁর দায়িত্ব বাড়তে থাকে। একসময় তাঁকে সেই দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব  নিতে হয়। এক পর্য্যায়ে পার্টির সিদ্ধান্তেই পার্টির সাথে তার সাংগঠনিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়। 

আরো পরে তিনি ‘গনফোরাম’-এর নেতৃত্বের গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন। অবশেষে তিনি ‘গনফোরাম’ ছেড়ে ‘ঐক্য ন্যাপ’ সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। যে পার্টিতে তাঁর রাজনৈতিক শিক্ষার সূচনা হয়েছিল, সেই পার্টির সাথে সবসময় একমত হয়ে চলতে না পারলেও, পার্টির আদর্শ তাঁর চিন্তা ও কাজকে সবসময়ই কোন না কোন ভাবে প্রভাবিত করেছে। প্রতিবাদ-প্রতিরোধ-আন্দোলন-সংগ্রাম তাঁ রক্তের মাঝে প্রবিষ্ঠ ছিল। তিনি সামাজিক প্রতিরোধ সংগঠিত করতে নিজেকে ‘বিলিয়ে দিয়েছিলেন’। যেখানেই অন্যায়-অত্যাচার, যেখানেঈ জালেমের অত্যাচারের বিপদ, তা সে যতো মহা শক্তিমানের দিক থেকেই আসুক না কেন, সেখানেই দৌড়ে ছুটে যেতেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য্যে। অসুস্থ শরিরও তা থেকে তাকে নিবৃত্ত করতে পারতো না।

আরও খবর

news image

এগোতে হলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

news image

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নারী

news image

দিনবদলের অঙ্গীকারে নতুন দল ও জনগনের প্রত্যাশা

news image

আঞ্চলিক ভাষা বাংলার অলঙ্কার স্বরুপ

news image

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এখনই ব্যবস্থা নিন

news image

আরও গতিশীল হোক মেট্রোরেল

news image

রাষ্ট্রভাষা, রাষ্ট্রের ভাষা ও গণতন্ত্র

news image

ছালেহার কালো বোরখা

news image

সেলিম আল দীন : বাংলানাটকের শিকড় সন্ধানী গবেষক 

news image

নির্বাচনী রাজনীতি  

news image

পূর্বাচলে একের পর এক লাশ: অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে এলাকা

news image

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

news image

চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো প্রভাবশালীদের দখলে

news image

শব্দ সন্ত্রাস, সুস্থতার অধিকারে করছে বিঘ্নতার সৃষ্টি

news image

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম : উদ্যোক্তা সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সম্ভাবনা

news image

অসুরনাশীনি আঁধার বিনাশীনি দেবী দুর্গা

news image

বিশ্বখ্যাত টাইম স্কয়ারে দুর্গাপূজা 

news image

ভূরাজনীতির নতুন উদীয়মান বন্ধুত্ব ও শত্রুতা

news image

পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য, যার রক্তে ছিল প্রতিবাদের আগুন

news image

 কলঙ্কিত হচ্ছে উচ্চশিক্ষা পীঠ