নিউজ ডেক্স ১৭ মে ২০২৪ ১১:০১ এ.এম
ফুটপাথঘেঁষা দেয়ালে লাল বর্ণে বড় করে লেখা ‘ভালো কাজের হোটেল’। একজনের পাশে এসে আরেকজন বসছেন। দীর্ঘ হচ্ছে এই লাইন। এভাবে ফুটপাথে দীর্ঘ সারি। খাবার পাবার অপেক্ষা তাদের। কেউ কুলি, রিকশাচালক, ভবঘুরে আর পথচারীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। সময় হওয়ার আগেই আসতে থাকেন তারা। দুপুর বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পিকআপে করে খাবার নিয়ে এলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অতিথিদের মুখে তখন হাসি। খাবারের হাঁড়িগুলো নামিয়ে রাখলেন ফুটপাথে। এরপর বুফে সিস্টেমে করে খাবারের আয়োজন। খিচুড়ি, ডিম, সবজি ভিন্ন ভিন্ন পাত্রে রেখে দিলেন। স্বেচ্ছাসেবক এক তরুণ একটি খাতায় লিখলেন তাদের নাম ও ভালো কাজের কথা। তারা কেউ বয়স্ক মানুষকে রাস্তা পার করে দিয়েছেন, কেউ রিকশায় বিনা ভাড়ায় এগিয়ে দিয়েছেন গন্তব্যে আবার কেউ রাস্তায় ফেলে থাকা ময়লা পরিষ্কার করেছেন। কেউবা জানালেন তাদের কোনো ভালো কাজ না করার কথা। লাইনে দাঁড়িয়ে একজন একজন করে নাম লিখে পাশে রাখা প্লেট নিয়ে নিজেরাই খাবার তুলে নিয়ে খেতে বসছেন ফুটপাথে।
ব্যতিক্রমী চিন্তা থেকেই এর যাত্রা শুরু। এই হোটেলে খেতে হলে গুনতে হবে না কোনো টাকা। এক বেলা খাবার খেতে একটি ভালো কাজ করলেই চলবে। যদি কোনো ভালো কাজ নাও করে থাকেন তাহলে সেই সত্য কথাটা বললেও তার জন্য থাকে খাবার। খালি মুখে ফিরে যেতে হয় না এ হোটেল থেকে। দিন আনা দিন খাওয়া দুস্থ, অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করতেই এ হোটেলের যাত্রা শুরু। একদল তরুণ ভালো কাজকে উৎসাহিত করতে এই ব্যতিক্রমী হোটেলটি শুরু করেছিলেন। প্রতিদিনই তারা একটি ভালো কাজের বিনিময়ে খাবার দেন। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে এর কার্যক্রম। কাওরান বাজার, সাত রাস্তা মোড়, বনানী ও কড়াইল বস্তির শাখা, মিরপুর-২, কালশি। এবং রাতে কমলাপুর, খিলগাঁও, রবীন্দ্র সরোবর, মোহাম্মদপুরে। চেয়ার-টেবিল দিয়ে সুসজ্জিত না থাকলেও খোলা আকাশের নিচে ফুটপাথে সারিবদ্ধ হয়ে বসে সবাই তৃপ্তি নিয়ে খান এই খাবার।
এ হোটেলের সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক রুবেল আহমেদ হিমেল বলেন, কাওরান বাজারের এই শাখাটি একটু অন্য শাখার চেয়ে ভিন্ন। এখানে বুফে সিস্টেমে অতিথিদের খাওয়ানো হয়। তারা নিজেরা খাবার নিয়ে খাচ্ছে প্লেটে করে। আর অন্যগুলোতে ফুটপাথে বসে লাইন ধরে বসে থাকে। সেখানে আমরা খাবার তুলে দেই। এখানে আসা এসব মানুষ বুফে কি এটাই চিনে না। আমরা চাই তারা একটু নিজেরা খাবার প্লেটে তুলে নিয়ে আনন্দ পাক। আমাদের প্রত্যেকটি শাখাতেই একদিন ভাত, একদিন খিচুড়ি, সপ্তাহে দুইদিন গরুর মাংসের ব্যবস্থা করি। নয়টা হোটেলের মধ্যে দুইটা হোটেলে বুফে সিস্টেম। দুপুরে চলে কাওরান বাজার, সাতরাস্তা, বনানী, মিরপুর এবং কালসি। আর বাসাবো, কমলাপুর, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি- বাকি চারটা রাতে চলে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০ মানুষকে খাওয়ানো হয়। শুক্রবার বন্ধ থাকে এটা। যারা আসে তাদের ১০০ জনকে জিজ্ঞেস করলে বলবে ভালো কাজ করছি। ৫ জন বলবে আমি করিনি আর ৫ জন মিথ্যা বলবে। আমরা ওদেরকে বলে দেই সবাই সত্য বলবা; কারণ সত্য বলাও কিন্তু একটা ভালো কাজ। কেউ সত্য বললে তাকে ফিরিয়ে দেই না। এখানে রিকশাচালক, নিম্ন আয়ের মানুষ, ভাসমান মানুষ এসবই বেশি আসে। এসব মানুষেরা অনেকে নেশায় আসক্ত থাকে; তারা ক্ষুধার যন্ত্রণায় অনেক খারাপ কাজ করে। আমরা খাওয়াই এবং খাওয়ানোর পরে ব্রিফ করি এবং প্রত্যেক দিন সবাইকে একটা ভালো কাজ করার উৎসাহ দেই। তাহলে খারাপ কাজ থেকে ওরা অনেকটা দূরে সরে থাকবে। আমাদের এখানে যারা খেতে আসে আসলে তাদের চেয়ে গরিব মানুষ আর হয় না। নয়টা শাখায় প্রায় ২৫০০ মানুষের খাবার ব্যবস্থা হয়। আমাদের ইচ্ছা একটি ক্ষুধামুক্ত দেশ করা।
ভালো কাজের হোটেলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মো. আরিফুর রহমানবলেন, ছোটবেলা থেকেই প্রতিদিন একটা ভালো কাজ করার চেষ্টা করতাম। এরপর একসময় মনে হলো এই ভালো কাজ শুধু নিজে করলে হবে না এটাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে হুমায়ূন আহমেদের ‘সবুজ ছায়া’ নামের একটি নাটক দেখেছিলাম। সে নাটকে অভিনেতা জাহিদ হাসান প্রতিদিন ভালো কাজ করতেন। সেই ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ২০০৯ সালে আমি এবং আমার কিছু বন্ধু ‘ভালো কাজের হোটেল’ চালু করি। ২০১৯ সালের দিকে সপ্তাহে একদিন করে খাবার দিতাম। এরপর ২০২০ যখন কোভিড আসলো তখন প্রতিদিন আমাদের এই কার্যক্রম শুরু করলাম। এখন পেশাগত জীবনে ব্যস্ত হয়ে গেলেও আমাদের ভালো কাজের প্রয়াসটা অটুট রয়েছে। বর্তমানে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ মানুষের খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ক্ষুধার্ত মানুষকে একবেলা খাবার দিয়ে তাদেরকে ভালো কাজে উৎসাহিত করা। স্বপ্ন দেখি, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে একটা সময় মানুষ যেন বলতে পারে বাংলাদেশে অনেক ভালো কাজ হয়।
নবীন নিউজ/এফ
ঢাকা থেকে বিলুপ্ত প্রায় কিছু আদি পেশা
ঘুরে আসতে পারেন বিক্রমপুর জাদুঘর
ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে একটি দর্শণীয় স্থান ফেনী
ভুটানের সেরা খাবার
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গাইবান্ধা
বসন্ত বাতাসে আজ শুধু ভালোবাসার বর্ণচ্ছটা...
পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে রংপুরে
স্বপ্নপুরীর দেশে একদিন
যা কিছু আছে দেখার আছে ব্রহ্মপুত্র ঘেরা কুড়িগ্রামে
বারুণী স্নান উৎসব দেখতে যেতে পারেন নীলফামারীর নীলসাগরে
প্রাচীন ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জনপদ ঠাকুরগাঁও ভ্রমণ
শেষ সীমান্তের সৌন্দর্য দেখতে লালমনিরহাট ভ্রমণ
ঘুরে আসতে পারেন প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন ‘হিমালয়কন্যা’ পঞ্চগড়
প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল শাপলা
পর্তুগালে স্থায়ী ভাবে থাকার সুবিধা বন্ধ
বঙ্গোপসাগরের যে দ্বীপে মানুষ গেলে আর জীবিত ফিরতে পারে না
২ মিনিটে হাঙরকে একাই গিলে ফেললো তিমি
যে ৬টি কাজ করে আপনি নিজের জীবন নিজেই নষ্ট করছেন
‘মৃত্যুর’ নাম্বার পড়েছে লক্ষ্মীপুরের ১৫ হাজার গাছে!
‘নারীর বিনা বেতনে করা কাজের স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি স্মার্ট হবে না’
মাটি খুঁড়তেই বের হলো ২ হাজার বছর আগের শত শত সমাধি
মাছ কী ঘুমায়?
হিজাব পরে আলোচনার ঝড় তুললেন যে মডেল
গাছ লাগানোর সঠিক সময় কখন?
৫০ জন কনের যৌতুক ছাড়া বিয়ে
জীবন্ত অবস্থায় কবর দেবার চারদিন পর বৃদ্ধকে জীবিত উদ্ধার
কর্মক্ষেত্রে একাকিত্ব বোধ করেন?
ভালো কাজ করলেই খাবার পাওয়া যায় যেখানে
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ার কারণ ও সমাধান
বৃষ্টির মতো ছিটকে পড়ছে স্বর্ণ