আমরা সবাই জান্নাতে যেতে চাই; কিন্তু জান্নাতে যাওয়ার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমরা তা কতটা করছি?
আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাতে যাওয়ার অনেক পন্থা রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে যাওয়ার পথটি আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। কিন্তু দুনিয়াবি ব্যস্ততার মধ্যে ডুবে থেকে মাঝে মাঝে আমরা এই সহজ পথটিও ভুলে যাই।
সাহাবীদের একটা ঘটনা দিয়ে ব্যখ্যা করা যাক। হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) নামে একজন সাহাবি ছিলেন। তিনি ছিলেন মদিনা মনোয়ারার একটি মসজিদের ইমাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ইয়েমেনের কাজি হিসেবে নিয়োগ করেন।
মুআজ (রা.) যেদিন কর্মস্থলে রওনা দেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও তাঁকে পায়ে হেঁটে বেশ কিছু পথ এগিয়ে দিতে আসেন। মুআজ (রা.) অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে বললেন, ‘আপনি সওয়ারিতে আরোহণ করুন।’
নবীজি (সা.) বলেন, ‘আমি তোমার প্রতি নয়, তোমার জ্ঞানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছি।’
নবীজি (সা.) যখন মুআজ (রা.)-কে বিদায় জানাচ্ছিলেন, তাঁকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, ‘হে মুআজ, সম্ভবত আমার সঙ্গে তোমার আর সাক্ষাৎ হবে না।’
বাস্তবে ঘটেছিল তা-ই। হজরত মুআজ (রা.) ইয়েমেন থেকে যখন ফিরে আসেন তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের হয়ে গিয়েছিলো।
মুআজ (রা.)-কে বিদায় জানানোর দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বক্তব্য দেন।
হজরত মুআজ (রা.) বিদায়কালে বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এমন একটি পথ বাতলে দিন, যাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। জাহান্নাম থেকে নাজাত পেতে পারি।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘মুআজ, তুমি আমাকে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করেছ। আল্লাহ অবশ্য এটি যার জন্য সহজ করে দেন, তার জন্য তা সহজ হয়ে যায়। তুমি কখনো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে, রমজানের রোজা রাখবে, জাকাত দেবে আর হজ করবে।’
এর পর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে থেকেই প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি তোমাকে পুণ্যের দরজাগুলোর সংবাদ দেব না?’ বলেই তিনি বললেন, ‘রোজা ঢালের মতো (তা প্রতিটি বিপদ এবং শাস্তিকে প্রতিরোধ করে)। পানি যেমন আগুনকে, সদাকা ঠিক সেভাবে গুনাহ্র বিনাশ ঘটায়। তুমি রাতে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়বে।’
তারপর রাসুল (সা.) আয়াত তিলাওয়াত করলেন, ‘বলো, তোমরা যদি মৃত্যুর বা নিহত হওয়ার ভয়ে পালাও, তাহলে তোমাদের লাভ নেই আর তোমরা পালাতে পারলেও তোমাদের জীবন ভোগ করতে দেওয়া হবে। বলো, আল্লাহ যদি তোমাদের অমঙ্গল চান, কে তোমাদের রক্ষা করবে আর যদি তোমাদের অনুগ্রহ করতে ইচ্ছা করেন, কে তোমাদের বঞ্চিত করবে? ওরা আল্লাহ ছাড়া নিজেদের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ১৬-১৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বললেন, ‘ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে নামাজ, আর তার শৃঙ্গ হচ্ছে জিহাদ।’
রাসুল (সা.) আবার প্রশ্ন করলেন, ‘আমি কি তোমাকে এসব জিনিসের সারকথা বলে দেব না?’
তিনি হাত দিয়ে নিজের জিব স্পর্শ করে বললেন, ‘একে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এর কারণেই মানুষকে উল্টোমুখী করে জাহান্নামে ছুড়ে ফেলা হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) জাকাত, প্রশাসন-ব্যবস্থা এবং ফরজের কিছু কিছু ব্যাখ্যা দিলেন। তারপর বললেন, ‘বিত্তশালীদের কাছ থেকে জাকাত নেওয়া হবে, আর বিত্তহীনদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হবে। দেখো, জাকাত-দাতাদের কাছ থেকে তাদের ভালো মালগুলো জোর করে নিয়ে আসবে না। মালুমের আর্তচিৎকার থেকে সব সময় বেঁচে থাকবে। কেননা, আল্লাহ এবং তাদের (আর্তচিৎকারের) মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না।’ (তিরমিজি)
তবে মনে রাখতে হবে, কুরআন-সুন্নাহ'য় বর্ণিত জান্নাতে যাওয়ার যেই পথই অবলম্বন করা হোক না কেন, সবকিছুর মূলে কিন্তু রয়েছে তাকওয়া কিংবা আল্লাহ ভীরুতা। তাকওয়া ছাড়া কোনো ভালো কাজেরই মূল্য নেই।
টানা নয়, কেনাকাটা সারুন বুঝে-শুনে
সোনামনিদের নিয়ে ঝক্কিহীন শপিং যেভাবে করবেন
ঈদ শপিংয়ে সতর্ক থাকুন
ইফতারে ঠান্ডা পানি পান ঝুঁকিপূর্ণ
ইফতারে সিদ্ধ ডিমে চাঙ্গা হোন
ইফতারে আনুন ভিন্নতা: ক্রিমি ফ্রুট ফিউশন
ইফতারে হালিম রেখেছেন কি?
ইফতারে খান বেলের শরবত
রোজায় সুস্থ থাকতে দই-চিড়া খান
রোজায় সুস্থ থাকতে মেনে চলবেন যে বিষয়গুলো
গুণের শেষ নেই ক্যাপসিকামে
বিটরুট হলো ‘সুপার ফুড’, তবে...
টমেটো খান, তবে অপরিমিত নয়
প্রতিদিন অন্তত একটি গাজর খান
দারুণ উপকারী দারুচিনি
সুস্থ থাকতে আদা খান
আগাছা হিসেবে জন্মালেও পুষ্টিগুণে ঠাঁসা বথুয়া শাক
মেথি শাকের জাদুকরী প্রভাব
পাট শাকে যেসব উপকার
পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ডাঁটা শাক
রোজায় সুস্থ থাকতে চিয়া সিডের সঠিক ব্যবহার
গুণের অভাব নেই কলমি শাকে
অবহেলা করবেন না নুনে শাক
পুষ্টির খনি লাউ শাক
লাউ যেন এক মহৌষধ!
এই গরমে পাতে রাখুন পটোল
খেতে ভুলবেন না গিমা শাক
কাদা পানিতে জন্মালেও হেলেঞ্চা কিন্তু উপকারী
কচুর ছড়া বা কচুমুখির নানা গুণ
পুষ্টিগুণে ভরপুর কচুর লতি