নিউজ ডেক্স ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ০৪:৩৫ পি.এম
কোনো কোনো মানুষের ধারণা, সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীরা কিছু খেতে পারবে না; এসময় খেলে নাকি গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হবে। তেমনি কেউ কেউ এমনও ধারণা করে থাকে যে, এসময় গর্ভবতী নারী তরিতরকারি বা কোনো কিছু কাটতে পারবে না; তাতে নাকি গর্ভস্থ সন্তান বিকলাঙ্গ হওয়ার আশংকা রয়েছে। এরূপ উভয় ধারণাই অমূলক।
সূর্যগ্রহণ কিংবা চন্দ্রগ্রহণ ঘিরে পৃথিবীর অনেক দেশেই নানারকম ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভুল ধারণা কিংবা কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে এমন কিছু কুসংস্কার যা অনেক দেশেই বেশ গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়। গ্রহণ সম্পর্কে সবচেয়ে বড়ো কুসংস্কার খাওয়া-দাওয়াকে ঘিরে। এই যেমন সূর্যগ্রহণ কিংবা চন্দ্রগ্রহণের সময় খাবার রান্না করা বা খাবার খাওয়া উচিত নয়।
সূর্যগ্রহণের সময় কোনো ধরনের খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হয় অনেক জায়গায়। সেসব জায়গার মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে, সূর্যগ্রহণের সময় খাবার খাওয়া তো অমঙ্গলজনক বটে; রান্না করাও অমঙ্গলজনক। কিন্তু এরকম ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বিজ্ঞানীরা কখনোই পাননি।
সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে আরেকটি ভুল ধারণা হলো, সূর্যগ্রহণের সময় ভ্রমণ করলে তা অমঙ্গলজনক। এই ধারণা প্রচলিত রয়েছে ভারত, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে। তাদের মতে, সূর্যগ্রহণের সময় ভ্রমণ করলে গ্রহণের সময় সূর্য থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর রশ্মি গায়ে লেগে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নওরীন আহসান বলেন, গ্রহণের সময় সূর্য থেকে আলাদা কোনো ক্ষতিকর রশ্মি নিঃসরণ হয় না, কাজেই আলাদাভাবে কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
গ্রহণের পর গোসল করা নিয়েও রয়েছে মানুষের ভুল ধারণা। সূর্যগ্রহণের ফলে তথাকথিত যেসব ক্ষতিকর রশ্মি শরীরের সংস্পর্শে আসে, সেসব রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করতে গ্রহণের শেষে গোসল করার উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে অনেক জায়গায়।
বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে সূর্যগ্রহণ দেখার কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। অনেক জায়গায় সূর্যগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে চোখের সুরক্ষার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার উপদেশ দেয়া হয়। সতর্ক করা হয় এই বলে যে, সামান্য সময়ের জন্যও খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। তবে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নওরীন আহসানের মতে, শুধু সূর্যগ্রহণের দিনই যে সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকানো উচিত নয় বলে যে ধারণা প্রচলিত, সেটিও ঠিক নয়।
সূর্যগ্রহণে রসুল সা. এর আমল
সূর্য ও চন্দ্র যখন গ্রহণের সময় হয় তখন আমাদের নবীর (সা.) চেহারা ভয়ে বিবর্ণ হয়ে যেতো। তখন তিনি সাহাবীদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়তেন। কান্নাকাটি করতেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।
অবিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা প্রথমে যখন মহানবীর (সা.) এ আমল সম্পর্কে জানতে পারলো, তখন তারা এটা নিয়ে বিদ্রুপ করলো (নাউযুবিল্লাহ)। তারা বললো, এ সময় এটা করার কি যৌক্তিকতা আছে?
সূর্যগ্রহণের সময় চন্দ্রটি পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে বলে সূর্যগ্রহণ হয়। ব্যাস এতটুকুই! এখানে কান্নাকাটি করার কি আছে? মজার বিষয় হলো, বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় যখন এ বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু হলো, তখন মহানবীর (সা.) এই আমলের তাৎপর্য বেরিয়ে আসলো।
সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় মহানবীর (সা.) সেজদারত হওয়া এবং সৃষ্টিকূলের জন্য পানাহ চাওয়ার মধ্যে আমরা একটি নিখুঁত বাস্তবতার সম্পর্ক খুঁজে পাই। মহানবীর (সা.) এ আমলটি ছিলো যুক্তিসঙ্গত ও একান্ত বিজ্ঞানসম্মত। তাই এটিকে উৎসব না বানিয়ে আল্লাহকে ভয় করুন। সালাত আদায় করুন।
সূর্যগ্রহণের নামাজ কিভাবে পড়ব
আরবিতে সূর্যগ্রহণকে ‘কুসুফ’ বলা হয়। আর সূর্যগ্রহণের নামাজকে ‘সালাতুল কুসুফ’ বলা হয়। দশম হিজরিতে যখন পবিত্র মদিনায় সূর্যগ্রহণ হয়, রাসুল (সা.) ঘোষণা দিয়ে লোকদের নামাজের জন্য সমবেত করেছিলেন। সেই নামাজের কিয়াম, রুকু, সিজদাসহ সব রুকন সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ছিল। সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণকালে মুমিনদের করণীয় হচ্ছে তাৎক্ষণিকভাবে একত্র হয়ে সালাত আদায় করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকা।
এ সালাত আদায় করা নফল। এই নামাজে আজান ও ইকামত দিতে হয় না। তবে লোকজন ডাকার জন্য ‘আস-সালাতু জামিয়া’ (নামাজ সমাগত) বা এ জাতীয় বাক্য ব্যবহার করে ডাকার অবকাশ রয়েছে। সমাবেশস্থলে জুমার নামাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমাম উপস্থিত থাকলে তিনি সূর্যগ্রহণের সালাত জামাতে আদায় করাবেন। আর ইমাম বা তাঁর প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে একা একা সালাত আদায় করা যাবে। এ সালাত অন্য সালাতের চেয়ে অধিক দীর্ঘ হওয়া উচিত। রাসুল (সা.) এ সালাতের কিরাত, কিয়াম, রুকু, সিজদাসহ অন্য আমলগুলোও অনেক দীর্ঘ করেছেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সালাতে কিয়াম, রুকু ও রুকু থেকে দাঁড়ানো অবস্থা অত্যধিক দীর্ঘায়িত করেছেন। এমনকি কিয়াম অবস্থায় প্রায় সুরা বাকারা তিলাওয়াত করার মতো সময় অতিবাহিত করেছেন এবং রুকু থেকে দাঁড়িয়ে এর চেয়ে তুলনামূলক কম সময় অবস্থান করেছেন। আর দ্বিতীয় রাকাত প্রথম রাকাতের চেয়ে ছোট করেছেন।
তিনি কিয়ামের মধ্যে কিরাত ছাড়াও তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির, তাহমিদ, দোয়া পড়েছেন বলে অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে। সালাত আদায় শেষ হলে সূর্য পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত দোয়া করতে হয়। হানাফি মাজহাবে অন্য সালাতের মতো এ সালাতেও প্রতি রাকাতে একটি মাত্র রুকু আদায় করতে হয়। শাফিয়ি মাজহাবে প্রতি রাকাতে দুটি রুকু করতে হয়।
অবশ্য হাদিসের বর্ণনাগুলোতে এ সালাতে রাসুল (সা.) দুই বা ততোধিক রুকু করেছেন বলেই উল্লেখ রয়েছে। এ সালাতের রাকাত সংখ্যা দুই। তবে চার রাকাত বা তার বেশিও আদায় করা যায়।
সে ক্ষেত্রে প্রতি দুই বা চার রাকাতের পর সালাম ফিরাতে হবে। সালাতের শেষে কোনো খুতবা পড়তে হয় না। কোনো কোনো বর্ণনায় রাসুলের (সা.) খুতবা পাঠের কথা বর্ণিত থাকলেও তা সালাতের সংশ্লিষ্ট হিসেবে নয়; বরং তা ছিল ‘গ্রহণ’ সম্পর্কে জাহিলি যুগের ভ্রান্ত ধারণা নিরসনের জন্য দেয়া বিশেষ বিবৃতি। (আল-আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারি)
নবীন নিউজ/জেড
শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজার বিশেষ সওয়াব
গোর-এ-শহীদে সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত
ঈদের প্রথম জামাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত
চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ ঈদ
যেভাবে আদায় করব ফিতরা
জুমাতুল বিদার মাহাত্ম্য
ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ
ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানালো আবহাওয়া দপ্তর
ফজরের আজানের সময় সেহরি খেলে রোজার বিধান কী?
রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য
জাকাত: ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান
প্রথম তারাবিতে মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়
আগাম রোজা পালন পিরোজপুরের ১০ গ্রামে
সৌদির সঙ্গে কাল রোজা রাখবেন ভোলার ৫ হাজার মানুষ
সৌদিতে শনিবার থেকে রোজা
রমজানে অফিস সময় নির্ধারণ
পহেলা মার্চ রোজা, ৩৩ বছর পর দেখা মিলবে ‘বিরল’ দিনের
রোজায় ওমরাহ পালনকারীদের বরণ করতে সৌদি আরবের প্রস্তুতি
দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা
সৌভাগ্যের রজনী পবিত্র শবে-বরাত আজ
দুপুরে আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব
আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হল টঙ্গীর তুরাগতীর
রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ
মধ্যরাত থেকে ইজতেমা এলাকায় বন্ধ থাকবে গণপরিবহন
টঙ্গীর তুরাগে বিশ্ব ইজতেমা শুরু কাল
চলন্ত ট্রেনে নামাজ পড়ার নিয়ম
বান্দার জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে যোগসূত্র তৈরী হয় : ছারছীনার পীর ছাহেব
যুবক বয়সের তওবা মহান আল্লাহর কাছে অত্যাধিক প্রিয় : ছারছীনার পীর সাহেব
নফল ইবাদত মুমিনের জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন
বিশ্ব ইজতেমা আগামী জানুয়ারিতে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা