ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘জমিদার’ মন্তব্যে পদচ্যুত জামায়াত নেতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৮১ বার পড়া হয়েছে

হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতের বিতর্কীত আমির মো. সিরাজুল ইসলাম: ছবি সংগৃহীত

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সিরাজুল ইসলামকে সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামকে ঘিরে তার দেওয়া এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় ওঠায় এই সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামী।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) জোবরা গ্রামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম বলেন,
‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা জমিদার, আর জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’

তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার মালিক স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই বিশ্ববিদ্যালয় যদি তাদের যথাযথ সম্মান না দেয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে গতকাল শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এর একদিন পর উত্তর জেলা জামায়াত জরুরি বৈঠকে বসে। জেলা আমির আলা উদ্দিন সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে সিরাজুল ইসলামকে উপজেলা আমিরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিরাজুল ইসলামের উক্তি তার ব্যক্তিগত মতামত, যা দলের অবস্থান নয়। এ বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এজন্য জামায়াতে ইসলামী দুঃখ প্রকাশ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জোবরা গ্রাম একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক। অতীতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সম্প্রতি সংঘর্ষে আহত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়, যাতে কেউ এ ঘটনাকে পুঁজি করে নতুন কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সিরাজুল ইসলামকে ঘোষণা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক এই বিতর্ক তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ঘটনাটি এখনো স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘জমিদার’ মন্তব্যে পদচ্যুত জামায়াত নেতা

আপডেট সময় : ১০:১৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সিরাজুল ইসলামকে সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামকে ঘিরে তার দেওয়া এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় ওঠায় এই সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামী।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) জোবরা গ্রামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম বলেন,
‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা জমিদার, আর জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’

তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার মালিক স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই বিশ্ববিদ্যালয় যদি তাদের যথাযথ সম্মান না দেয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে গতকাল শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এর একদিন পর উত্তর জেলা জামায়াত জরুরি বৈঠকে বসে। জেলা আমির আলা উদ্দিন সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে সিরাজুল ইসলামকে উপজেলা আমিরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিরাজুল ইসলামের উক্তি তার ব্যক্তিগত মতামত, যা দলের অবস্থান নয়। এ বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এজন্য জামায়াতে ইসলামী দুঃখ প্রকাশ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জোবরা গ্রাম একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক। অতীতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সম্প্রতি সংঘর্ষে আহত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়, যাতে কেউ এ ঘটনাকে পুঁজি করে নতুন কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সিরাজুল ইসলামকে ঘোষণা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক এই বিতর্ক তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ঘটনাটি এখনো স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।