দেশে প্রথমবার চালু হলো নিরাপদ খাদ্য গবেষণা ফেলোশিপ
- আপডেট সময় : ১০:২০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে তরুণ গবেষকদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করতে প্রথমবারের মতো ফেলোশিপ কার্যক্রম চালু করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসান এ অনলাইনভিত্তিক ফেলোশিপ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে খাদ্য সচিব জানান, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং তরুণ গবেষকদের সম্পৃক্ত করতে এ ফেলোশিপ চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রণীত ফেলোশিপ নীতিমালা-২০২৪ অনুযায়ী এটি বাস্তবায়িত হবে। এর ফলে দেশে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক গবেষণা এবং জনসচেতনতা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, ‘এই কার্যক্রম তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন দরজা খুলে দেবে। তারা গবেষণার মাধ্যমে যে ফলাফল নিয়ে আসবেন, তা সরাসরি জনকল্যাণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজে লাগানো হবে।’
শুরুতে সাধারণ ফেলোশিপ-১ ক্যাটাগরিতে (এমএস বা সমমান) প্রায় ২০ জন গবেষক নির্বাচন করা হবে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফেলোশিপের আওতায় মোট ১৪টি গবেষণা ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. খাদ্য অণুজীব বিজ্ঞান
২. খাদ্য রসায়ন
৩. খাদ্য বিষবিদ্যা
৪. খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ
৫. খাদ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ
৬. ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
৭. উদীয়মান প্রযুক্তি
৮. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
এ ছাড়া খাদ্যখাতে নতুন প্রযুক্তি, সৃজনশীল সমাধান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গবেষণার সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে এটুআই-এর সহযোগিতায় মাইগভ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল সিস্টেমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ গবেষকরা শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
ফেলোশিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দক্ষ গবেষক ও বিশেষজ্ঞ জনবল গড়ে উঠবে। ফলে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগে অগ্রগতি ঘটবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ দেশের খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও নিরাপদ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।













