ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বছরে নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার মেনে হবে বিসিএস পরীক্ষা

এনএস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পিএসসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ছবি সংগৃহীত

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) স্বচ্ছতা বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর নির্ধারিত ক্যালেন্ডার মেনে পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব বা অনিয়ম না ঘটে।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পিএসসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিসিএস পরীক্ষা হচ্ছে সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘‘এন্ট্রি পয়েন্ট’’। যারা এই পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জন করে চাকরিতে প্রবেশ করবে তারাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। যদি এই প্রবেশদ্বারেই অনিয়ম থেকে যায়, তবে পুরো ব্যবস্থাতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং সংস্কারের প্রয়োজনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া, ভবিষ্যত প্রশাসনকে আরও যোগ্য ও দক্ষ করতে হলে একটি সঠিক ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

বৈঠকে পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম কমিশনের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কমিশন ইতোমধ্যেই পাঁচ বছরের একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে পরের বছরের অক্টোবরের মধ্যেই বিসিএস পরীক্ষা ও নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা হবে।

কমিশনের সদস্যরা বৈঠকে উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, প্রশ্নফাঁসসহ নানা অনিয়ম বিসিএস পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছে। তবে এখন এমন সংস্কার নেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর এসব অনিয়ম না ঘটে। তাঁরা আশ্বাস দেন, প্রশ্নপত্রের মান উন্নত করে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চাকরির প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিতে সক্ষম হন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, পিএসসির সদস্য মো. সুজায়েত উল্যা, মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. এম. সোহেল রহমান, অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. শাহনাজ সরকার এবং পিএসসি সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বছরে নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার মেনে হবে বিসিএস পরীক্ষা

আপডেট সময় : ১০:০৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) স্বচ্ছতা বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর নির্ধারিত ক্যালেন্ডার মেনে পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব বা অনিয়ম না ঘটে।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পিএসসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিসিএস পরীক্ষা হচ্ছে সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘‘এন্ট্রি পয়েন্ট’’। যারা এই পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জন করে চাকরিতে প্রবেশ করবে তারাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। যদি এই প্রবেশদ্বারেই অনিয়ম থেকে যায়, তবে পুরো ব্যবস্থাতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং সংস্কারের প্রয়োজনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া, ভবিষ্যত প্রশাসনকে আরও যোগ্য ও দক্ষ করতে হলে একটি সঠিক ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

বৈঠকে পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম কমিশনের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কমিশন ইতোমধ্যেই পাঁচ বছরের একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে পরের বছরের অক্টোবরের মধ্যেই বিসিএস পরীক্ষা ও নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা হবে।

কমিশনের সদস্যরা বৈঠকে উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, প্রশ্নফাঁসসহ নানা অনিয়ম বিসিএস পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছে। তবে এখন এমন সংস্কার নেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর এসব অনিয়ম না ঘটে। তাঁরা আশ্বাস দেন, প্রশ্নপত্রের মান উন্নত করে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চাকরির প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিতে সক্ষম হন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, পিএসসির সদস্য মো. সুজায়েত উল্যা, মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. এম. সোহেল রহমান, অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. শাহনাজ সরকার এবং পিএসসি সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।